Main Menu

এ কেমন বর্বরতা!

সম্পাদকীয় কলামঃ
গাছের ডালে ঝুলে আছে গলাকাটা সাড়ে পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু তুহিনের নিথর দেহটি। নিষ্পাপ দেহ থেকে কেটে আলাদা করে নেয়া হয়েছে দুটি কান। ছোট্ট শরীর থেকে গোপনাঙ্গও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ঘাতকরা। নির্মমতার এখানেই শেষ নয়—হত্যার পর শিশুটির পেটে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে দুটি ধারালো ছুরি। হত্যা করার​ সবধরনের পাশবিকতাকে হার মানিয়েছে জানোয়ারেরা! কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব এতটা বর্বর হওয়া? ছি ছি ছি! আমরা আশরাফুল মাখলুকাত!

ছবিটি দেখে আমি স্তব্দ, আমি নির্বাক, আমি ভাষাহীন, কতটা পশু হলে এই জগন্যতম কর্মটি করতে পারে? মানুষ কতো বড় ‘জানোয়ার’,কত বড় হিংস্র
হলে এমন অমানবিক ভাবে একটা মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করতে পারে!!!! নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে।

আবরার হত্যার মত এটাও কম পৈশাচিক নয়, কোন হত্যাকান্ড সমর্থন যোগ্য নয়। এই সব বর্বরতা মেনে নেওয়া মানে সমাজকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করা। আবরারের মত এই মাসুম বাচ্চাটিও তো কোন মা বাবার আদরের সন্তান? তারও তো বাঁচার অধিকার ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, সে সৃষ্টির সেরা জীব তার বিষয়ে কেন সবাই নিরব?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আবেদন, এই মাসুম বাচ্চাটির হত্যাকারি যে বা যারা হউক না কেন তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, গত সোমবার সকালে পুলিশ গিয়ে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। তুহিনের বাবা আবদুল বাছির একজন কৃষক। তার মায়ের নাম মনিরা বেগম।

শিশুটির আত্মীয় ইমরান আহমেদ বলেন, আবদুল বাছিরের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এর মধ্যে তুহিন দ্বিতীয়। ঘরের দুটি কক্ষে দুই ভাই বাছির ও মছব্বির তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। গতকাল রোববার রাতে খেয়ে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। রাত আড়াইটার দিকে বাছিরের এক ভাতিজি তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলে যে তাদের ঘরের দরজা খোলা। এরপর সবাই জেগে ওঠে দেখেন তুহিন নেই।

তখন প্রতিবেশীদেরও ডেকে তোলা হয়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে রাস্তায় গিয়ে রক্ত দেখতে পান তারা। কিছুটা সামনে গিয়ে রাস্তার পাশে কদম গাছে তুহিনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে বলেও জানান ইমরান আহমেদ।

আবদুল বাছিরের ভাই আবদুল মছব্বির বলেন, ‘তুহিন এবার স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। তার বাবার জমিজমা নিয়ে গ্রামের কিছু মানুষের সঙ্গে বিরোধ আছে। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা বুঝতে পারছি না। যে-ই করে থাকুক, আমরা তাদের শাস্তি চাই।’






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*