করোনা জাল সনদে লন্ডন যেতে পারেনি সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানের মেয়ে

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:18 AM, 27 July 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুলাই ২০২০

করোনা সনদ (কোভিড-১৯) জালিয়াতি করে নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে ধরা খেয়ে লন্ডন যেতে পারলেন না সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খান।

দেশ ছাড়ার আগে ইমিগ্রেশনে অনলাইন চেকে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। ভুয়া সনদ নেওয়ায় এই যাত্রীকে লন্ডনগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি।

আজ রোববার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ঢাকা থেকে লন্ডনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত একটি ফ্লাইট ছিলো। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক যাত্রীর বিদেশ যাওয়ার জন্য কোভিড–১৯ নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। যাত্রীদের কোভিড–১৯ নেগেটিভ সনদ পরীক্ষার সময় ঐশী খান নামের ওই নারী যাত্রীর কোভিড সনদে জটিলতা দেখা দেয়। পরে সেই সনদ নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচাই করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সনদের নম্বর যাচাই করে দেখা যায় ওই যাত্রীর কোভিড–১৯ পজিটিভ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইমিগ্রেশনে করোনা সনদ চেককালে পজিটিভ ধরা পড়ায় বিমানের লন্ডন ফ্লাইটে একজন যাত্রীকে যেতে দেওয়া হয়নি।

তিনি একজন সাবেক মন্ত্রীর মেয়ে কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, তার পরিচয় কী, সেটা আমরা জানি না। তিনি বিমানের যাত্রী ছিলেন, এটুকু আমরা জানি। ইমিগ্রেশন অথরিটি করোনা সনদ চেক করলে অনলাইনে রিপোর্ট পজিটিভ দেখায়, এজন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে লন্ডন যেতে দেয়নি।

শিডিউল ফ্লাইটটি রোববার দুপুর ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্য ছেড়ে গেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

মেয়ের লন্ডন যেতে না পারার কারণ জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, আমার মেয়ে লন্ডনে পড়াশোনা করে। এরই মধ্যে সে ওখান থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির আগে ছুটিতে বাংলাদেশে আসে। এরপর আর যেতে পারছিলো না। লন্ডন যাওয়ার জন্য গত পরশু দিন (২৪ জুলাই) আমার মেয়ে মহাখালীতে ডিএনসিসির আইসোলেশন সেন্টারে কোভিড–১৯ নমুনা পরীক্ষার জন্য দিয়েছিলো। গতকাল তার মেসেজ আসে যে সে কোভিড–১৯ নেগেটিভ। এরপর আমার ভাগ্নে মহাখালীতে গিয়ে কোভিড–১৯ সনদ নিয়ে আসে। সেই সনদে কোভিড–১৯ নেগেটিভ উল্লেখ করা ছিলো। পরে আজ সকালে লন্ডন যাবার জন্য আমি আমার মেয়েকে নিজে বিমানবন্দরে দিয়ে আসি। এরপর জানতে পারি যে আমার মেয়ের কোভিড–১৯ পজিটিভ।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার শেরেবাংলা নগর ঢাকা এই ঠিকানায় কোভিড–১৯ নেগেটিভ সনদ দেওয়া হয়েছিলো। আমার মেয়ের এই সনদে স্বাক্ষর ছিলো যে চিকিৎসকের তার নাম উল্লেখ রয়েছে, এমডি বায়েজিদ বিন মনির। আজকে সেখানে যোগাযোগ করার পর তারা কোভিড–১৯ পজিটিভ সনদ দিয়েছে। সেখানে কারও স্বাক্ষর ছিল না। পরে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে সব কাগজপত্র দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, এখন যে মেইল দেখতে পাচ্ছি, সেটাতে কোভিড পজিটিভ উল্লেখ করা রয়েছে। আগের সনদটি পাওয়া যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন :