Main Menu

খোন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ!

স্টাফ রিপোটার:
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাধীন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি-২০১৯ গঠনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদুল আলম ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের অবিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণ।

খোন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বের ব্যাবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ঐ সময় নতুন কমিটি গঠনের জন্য প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদুল আলম সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করে, বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে তড়িঘড়ি করে ওনার ইচ্ছে মতো পছন্দের লোকদের কমিটিতে রাখতে, দায়সারা ভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল বলে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের অবিভাবক মাহমুদুল করিম সাত্তার। তিনি বলেন, আমার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের গেইটের সামনে। অথচ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনের খবর আমি জানি না। বিদ্যালয়ের গেইটের পাশের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, আমার ছেলে মেয়েরা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আমার ইচ্ছে ছিল বিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা কমিটিতে অবিভাবক ক্যাটাগরীতে সদস্য পদে নির্বাচন করবো। প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদুল আলমের কূটকৌশলে, তা আর হয়ে উঠেনি।

অপর অবিভাবক নুরুল কবির ডিলার এই প্রতিবেদক কে বলেন, গোপন সুত্রে খবর পেয়ে অভিভাবক সদস্য পদে ফরম আনতে প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদুল আলমের কাছে গেলে, ওনি আমাকে উল্টো ঝাড়ি দিয়ে বলেন, তুমি বিএনপির রাজনীতি করো, চেয়ারম্যান (আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী) তোমাকে কমিটিতে আসতে দিবে???

এই বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অনেক গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের লোকজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা যদি সত্যি মাষ্টার মোরশেদ সাহেব বলে থাকেন, তা হলে কেন বলেছেন ওনি ভালো বলতে পারবেন। তবে এইভাবে বলা ঠিক হয় নি।

খোন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদুল আলম কতৃক গঠিত এই অনুমোদনহীন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের কথা তুলে ধরে, এই কমিটি বাতিল করে, নতুন ভাবে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে, গত ০৮ এপ্রিল’১৯ তারিখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আবুল মনসুর মোঃ মহসিন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ০৪ মে’১৯ তারিখে তদন্তে এলে, স্থানীয় শতাধিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উক্ত কমিটির সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে, অভিযোগকৃত ও অনিয়মতান্ত্রীকভাবে গঠিত এই অনুমোদনহীন কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন ভাবে কমিটি গঠনের জন্য অনুরোধ করে, প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদ সহ সকল সদস্য স্বাক্ষর করেন।

এই সিদ্ধান্ত হওয়ার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ না নিয়ে, প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদ আলম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কে ম্যানেজ করে, ঐ অনুমোদনহীন কমিটির একজন শিক্ষানুরাগী ক্যাটাগরির সদস্য কে বাদ দিয়ে, একই ক্যাটাগরিতে অশিক্ষিত একজন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেন।

ঐ অশিক্ষিত ব্যক্তিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করে, কমিটি অনুমোদনের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমাদেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ঐ কমিটির অভিভাবক ক্যাটাগরির দুই সদস্য মোঃ কলিম উল্লাহ ও বিপস রুদ্রের কোন ছেলে মেয়ে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এই বিদ্যালয়ে না থাকায় ওনারা কিভাবে “বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি-২০১৯” এর সদস্য হিসেবে সভাপতি নির্বাচনে অংশ নেন??? এই প্রশ্ন এখন সকলের।
বিদ্যালয়ের প্রকৃত অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এই অবৈধ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন ভাবে কমিটি গঠনের আবেদন ও দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোরশেদুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক শান্তির ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট আবেদন জানান।

এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে মোবাইল সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*