গুরুদাসপুরে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:53 PM, 29 May 2020

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এক গর্ভবতী গৃহবধূকে শ্লীলতাহানী করার অভিযোগ উঠেছে আবু বক্কার সিদ্দিক নামের এক মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনা ওই গৃহবধূর স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত আবু বক্কার সিদ্দিক গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট পদে চাকরি করছেন। নাটোর জেলা সদরের বাসিন্দা তিনি।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন- বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি স্বামীর সঙ্গে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভকালিন টিকা নিতে আসেন। এসময় অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক তার স্বামীকে কৌশলে বের করে দেন। টিকা দেওয়ার নামে ওই মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এসময় তাকে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসা না নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান- আবু বক্কার সিদ্দিক নামের ওই মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট প্রায় তিন বছর আগে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নারী কেলঙ্কারীসহ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি হাসপাতালের এক নারী মেডিকেল অফিসারকেও যৌন হয়রানী করেছেন। সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

ওই গৃহবধুর স্বামী অভিযোগ করেন- চিকিৎসা না নিয়েই তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে ওই মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। বাড়ি ফিরে তার স্ত্রী বিষয়টি পরিবারের লোকজনের কাছে খুলে বলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা ওই লম্পট মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের শাস্তি দাবি করেন।
অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট আবু বক্কার সিদ্দিক মোবাইল ফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। সতত্যা নিশ্চিত করে আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. রবিউল করিম শান্ত বলেন- ঘটনার পর পরই টোকরেনালজিষ্টকে স্থানীয় রোষানল থেকে রক্ষা করতে হাসপাতালের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন- অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প. কর্মকতা ডা.মুজাহিদুল ইসলাম বলেন- বিষয়টি নিয়ে নাটোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবেদন দুটি পওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #

আপনার মতামত লিখুন :