চকরিয়ায় দালান মালিকের অবহেলায় মৃত্যুর পথযাত্রী ইমরান

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:26 AM, 05 July 2020

 

সম্পাদক, ডেইলি বার্তা ৭১

চকরিয়া পৌরসভার কয়েক গজের ভেতরে অবস্থানরত অভিজাত আবাসিক এলাকা সবুজ বাগ আ/এ।বেশিরভাগ স্কুল পড়ুয়া ছাত্র -ছাত্রী নিয়ে ব্যবসায়ীসহ সুশীল সমাজের মানুষ এই এলাকায় নিরাপদ মনে বসবাস করে থাকেন।

দালানকোঠা নির্মাণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বহুতল ভবন নির্মান করে যাচ্ছেন অনেকে।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব বড় ভেওলার বাসিন্দা মোরশেদুল আলম ও অবৈধ দালান তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন, তিনি এতই ব্যস্ত যে দালানের পাশে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। সূত্রে জানা যায় এই মোর্শেদ একজন দুবাই প্রবাসী।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ৫ তলা ভবনের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
ইতোপূর্বে এই দালান তৈরিতে পথচারীরা ছোট ছোট কয়েকটি দূর্ঘটনার শিকার হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রভাবশালী এই ভবন মালিক।

শনিবার ৪জুলাই বিকাল ৪ টার দিকে স্থানীয় পথচারী প্রতিবেশী ব্যবসায়ী ইমরান নির্মাণাদীন দালানের চতুর্থ তলার ছাদ থেকে পড়া অরক্ষিত বাঁশের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসারত । আহত পথচারী নোমান বলেন বারবার নিষেধ করা স্বত্তে ও দালান মালিক পথচারীদের সুরক্ষার ব্যবস্হা না নেওয়ায় আজ আমি মারাত্মক আহত হয়েছি, আমার স্থলে অল্প বয়সের কোন বাচ্চা হলে স্পটডেথ হয়ে যেতো। ভবিষ্যতে এর একটা বিহীত না করলে হয়তবা আগামীতে নির্মান সামগ্রীর আঘাতে যে কেউ মারা পড়তে পারেন। ডাক্তার বলেছেন যদিও আঘাত গুরুতর তা এখন পুরোপুরি বলা না গেলেও আগামীতে আমি আরও জটিল পরিস্থিতির শিকার হতে পারি। এবং ডাক্তার সাহেব আমাকে সিটিস্কেন করবার পরামর্শ দেন।

কয়েকজন পথচারী অভিযোগের সাথে বলেন অতিস্বত্তর নিরাপত্তার ব্যবস্হা না নিলে দালান মালিকের অবহেলা আরও কত লোক আহত বা নিহত হবে তা বলা মুশকিল।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত মোর্শেদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় তিনি উপরের সব বিভাগকে হাত করে এই দালান তৈরি করছেন,সাংবাদিকগন লিখলেও তার কিছুই হবে না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন এই দালান মালিক।

বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দালান মালিক মোরশেদ স্থানীয় কয়েকজন কে নিয়ে দৌড়ঝাপ করে অল্প খরচে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টাররত আছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
মিমাংসা করার নামে আহত ইমরানের পরিবারকে ৫০০০ টাকা নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে একটি মহল থেকে । একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায় সবুজ বাগের কয়েক জন সমাজ কমিটির নেতা ইমরানের মামা চকরিয়া ব্যাবসায়ী সমিতির সদস্য মোঃ হাসেম সওদাগর কে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চুপ থাকতে বলে এবং আর কোন কথা নেই বলে ধমক দিতে।
ভিডিওটি তে হাসেম সওদাগর কে বলতে শুনা যায় – হাসপাতালের ডাক্তার সাহেব আমার ভাগিনা আহত ইমরান কে সিটিস্কেন করাতে বলেন। ওই পরিক্ষাটি করাতে প্রায় ১৫০০০ টাকা লাগবে। তার এই কথা শুনতেই রেগেমেগে ধমকের সুরে সমাজ কমিটির নেতা হাসেম কে থামিয়ে দেন।
এমন আচরণ নিয়ে স্থানীয় লোকদের ভিতর চাপা গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে।
স্থানীয় জনসাধারণ বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :