চকরিয়ায় মসজিদের ইমাম অপসারণের দাবীতে খোলা জায়গায় নামাজ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:12 AM, 01 August 2020

 

মনসুর মহসিন, চকরিয়া,কক্সবাজার।

চকরিয়া সাহারবিলের মাইজঘোনা পুরাতন জামে মসজিদে ইমাম অপসারণের ঘটনায় মুসল্লীদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে  ইমাম সরওয়ারের পিছনে নামাজ আদায় না করে মসজিদের অদূরে খোলা জায়গায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লীদের উপস্থিতিতে নামাজ আদায় করে  ইমামকে বয়কট করেন হাজার হাজার স্হানীয় মুসল্লী।

গত কয়েক মাস আগে থেকে ইমাম সরওয়ারের ইমামতিতে নামাজে অশুদ্ধ বাক্যগঠনে সুরা আদায় করা নিয়ে মুসল্লীদের মাঝে অসন্তুষ্টি দেখা দেয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি সাহারবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল হাকিম সহ স্থানীয়  কয়েকজন আলেম, ইমাম সারওয়ারকে শুদ্ধ ভাবে নামাজ আদায়ের জন্য কয়েকবার তাগিদ দিলেও তিনি কোন কর্নপাত করেনি। বরং ইমাম সরওয়ার কতিপয় উগ্রবাদী ও সমাজবিরোধী মানুষের প্ররোচনায় চকরিয়া থানায় মসজিদ কমিটির সভাপতি সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ এর মিথ্যা অভিযোগ করেন বলে জানান মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম।
চকরিয়া থানার ওসি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ইউএনও অফিসে এই অভিযোগটি প্রেরণ করেন বলে জানা যায়।

ইউএনও চকরিয়া উভয়ই পক্ষের সাথে কথা বলে সাহারবিল মাদ্রাসার শিক্ষক হাসান আলীকে অস্থায়ী ভাবে ইমামতি করার আদেশ দেন। তিনি দুই সপ্তাহ ভালো ভাবে নামাজ আদায় করলেও কতিপয় কয়েকজন ব্যাক্তি ইউএনও চকরিয়ার কাছে ভুল তথ্য দিয়ে সাবেক ইমাম সরওয়ারকে স্থানীয় মুসল্লীগন চায়, মর্মে বুঝালে ইউএনও চকরিয়া সাবেক ইমামকে পুনর্বহাল করে, নামাজ আদায়ের অনুমতি দেন।

ইউএনও এর এই সিদ্ধান্তের পর থেকে স্থানীয় বিপুল সংখ্যক মুসল্লীদের মাঝে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হয়। এরই ফল শ্রুতিতে মুসল্লীগন  ইমামের পিছনে নামাজ আদায় না করে, মসজিদের পাশে খোলার জায়গায় ৩১ জুলাই শুক্রবার জুমা’র নামাজ আদায় করেন।

এই বিষয়ে এলাকার কয়েকজন মুসল্লীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কোন অবস্থায় অশুদ্ধ ভাবে নামাজ পড়ানো, এই ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করবেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর সঠিক সমাধান না আসলে, প্রয়োজনে তাহারা নতুন মসজিদ তৈরি করে নামাজ আদায় করবেন বলে জানান স্থানীয় অধিকাংশ মুসল্লি।

এবিষয়ে ইমাম সরওয়ার বলেন-আমার দাদা মসজিদের জায়গা দান করে এই মসজিদ সৃষ্টি করেন। আমার বাবা আলহাজ্ব মোজাহের আহমদ এই মসজিদের মতুয়াল্লী ছিলেন। যার সূত্রে আমি এই মসজিদের বৈধ ইমাম।

ইমাম সাহেবের পক্ষের মুসল্লি ইউসুফ রাজা বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলের সাথে পার্শবতী বিদ্যালয়ের বিষয়ে বিরোধের কারনে ইমাম সাহেব কে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলেছে।

সাহারবিল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এনামুল হক এমউইপি বলেন-ইমামের দাদা মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করলেও অদ্যবদি তার কোন সঠিক কগজপত্র দেখাতে পারেনি। শত বছর ধরে তাদের মাধ্যমে মসজিদ পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং ওয়াকফ কৃত জমি তাহারা অন্যত্র বিক্রি করে নগদ টাকা পকেটেস্তহ করেছেন। তার পরেও তা আমরা মেনে নিয়ে নামাজ আদায় করে আসছি। সাম্প্রতিক কিছু সংখ্যক মুসল্লি ইমাম সাহেবের বিরুদ্ধে  অশুদ্ধ বাক্যগঠনে নামাজ আদায়ের অভিযোগ করায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি তাকে শুদ্ধ বাক্যে নামাজ আদায়ে তাগদা দেন এবং প্রয়োজনে শুদ্ধ ভাবে পড়ানোর ট্রেনিং নেওয়ার পরামর্শ দেওযায় ক্ষিপ্ত হয়ে, কিছু কুচক্রী ইমামকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন বলে জানান মেম্বার এনাম।

বর্ষায় খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায়ের কষ্টের কথা উল্লেখ করে, স্থানীয় বেশকিছু মুসল্লি বিষয়টি দ্রুত সমাধানে এগিয়ে আসার জন্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :