Main Menu

চিলমারীতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ল্যাপটপ থাকে শিক্ষক ও পিয়নের বাসায়!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে হচ্ছে না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের ল্যাপটপগুলো শিক্ষকরা বাসায় রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে । মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার এসব সামগ্রী  রেখেছেন বাক্সবন্দী করে। কেউ বা ব্যবহার করছেন নিজের কাজে। পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত ও যত্রযত্রভাবে নিজেদের কাজে ব্যবহারের কারণে  নষ্ট হয়েছে  ল্যাপটপ। কারো আবার প্রজেক্টর। এতে  প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে হচ্ছে না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস।
ফলে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারে অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে এসব  শিশুরা। চিলমারীতে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক এর সাথে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সরকারি প্রাথমিক ৯৩টি বিদ্যালয়ের পিইডিপি- ৪ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৬টি’তে ল্যাপটপ ৪৯টি’তে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ নানা শিক্ষা উপকরন দেয়া হয় । কিন্তু এসব শিক্ষা সামগ্রী অনেক শিক্ষক ও পিয়ন রেখেছেন নিজের বাড়িতে, ব্যবহার করছেন নিজের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ হিসেবে । সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় উপজেলার  পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খরখরিয় ১ নং ও ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দক্ষিন রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় প্রজেক্টর আছে কিন্তু ল্যাপটপ শিক্ষক ও পিয়নের বাসায়। এসব বিদ্যালয়গুলোতে  হয়না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। 
দক্ষিন রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে গিয়ে সহকারি শিক্ষকদের কাছে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর এর বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছুই বলতে পারেন নি। পরে প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক প্রজেক্টর দেখালেও ল্যাপটপ দেখাতে পারে নি।
খরখরিয়া ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ল্যাপটপ দেখতে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নৈশ প্রহরি পাভেলকে  ল্যাপটপের কথা বললে তিনি বাসায় রাখেন বলে জানান।
পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহিদা খাতুন জানান, আমার স্কুলের ল্যাপটপ দুইটি, সেগুলো সহকারি শিক্ষক রবিউল ইসলাম ও লিয়াকত এর বাসায় আছে।
মজাইডাঙ্গা সরকার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালযের মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষন প্রাপ্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লাস শিক্ষিকা জানান, আমার বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ আমাকে ধরতেই দেয় না, সবসময় প্রধান শিক্ষকের বাসায় থাকে, আমি কেমন করে ক্লাস নিব । এব্যপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি ল্যাপটপ চার্জে দেয়ার জন্য বাসায় নিয়ে যাই। কিন্তু বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতেও কেন ল্যাপটপ বাসায় চার্জ দিতে হবে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তার সদ্বোত্তর দিতে পারেন নি।
এমন চিত্র শুধু উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে নয় বেশীর ভাগ  সকল বিদ্যালয়েই। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার হচ্ছে না এর সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যববস্থা গ্রহন করব।
এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, স্কুলের ল্যাপটপ বাসায় রাখার কোন নিয়ম নেই, আমি শীগ্রই আইনগত ব্যববস্থা নেব।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরেও শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। মনিটরিং জোরদার করে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাস পরিচালনা করলে শিক্ষার সুবিধা পাবে শিশুরা। 





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*