Main Menu

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ক্লাসে ফিরতে চান অর্থনীতির শিক্ষক রুশাদ ফরিদী

বৃহস্পতিবার প্ল্যাকার্ড হাতে টানা তৃতীয় দিনের মত প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছেন রুশাদ ফরিদি

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও তাকে ক্লাস নিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এবং প্রতিবাদস্বরুপ গত তিনদিন যাবত বিভাগের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

ঐ শিক্ষকের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তার বিভাগের কিছু শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে হয়রানি করছেন।

রুশাদ ফরিদির অভিযোগ
অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রুশাদ ফরিদিকে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন এই শিক্ষক। দুই বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে আদালত রুশাদ ফরিদির পক্ষে রায় দেয় এবং তাকে কাজে যোগদান করার নির্দেশ দেয়।

তবে আদালত অগাস্ট মাসে রায় দিলেও সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি না পাওয়ায় রায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সহ আইনজীবীর সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি ২১শে নভেম্বর অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন।

অধ্যাপক রুশাদ ফরিদির অভিযোগ, ২১শে নভেম্বর নিজ বিভাগে আইনজীবীর সনদপত্র জমা দিয়ে যোগ দিতে গেলে অর্থনীতি বিভাগ থেকে তাকে জানান যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না পেলে বিভাগে যোগদান করতে পারবেন না তিনি।

এরপর তিনি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে আদালতের রায়ের কাগজ ও আবেদনপত্র জমা দেন।

তিনি বলছেন, তবে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের মাধ্যমে চিঠি জমা দেয়ার কথা থাকলেও বিভাগ তার চিঠি গ্রহণ না করয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে জমা চিঠিটি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেন এবং তার আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়।

এর কয়েকদিন পর থেকেই তিনি অর্থনীতি বিভাগের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা শুরু করেন।

কী কারণে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় রুশাদ ফরিদিকে?

রুশাদ ফরিদি জানান ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০১৭’র মার্চ পর্যন্ত তিনি অর্থনীতি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে সাতটি চিঠি লেখেন। বিভাগের শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম ছিল তার চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু।

সেসব চিঠিতে তিনি ‘দূর্নীতিগ্রস্থ’, ‘দুমুখো’ এর মত কড়া কিছু শব্দ ব্যবহার করেন বলে জানান।

এরপর ২০১৭ সালের ৭ই জুলাই বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকায় তার একটি লেখা ছাপা হয়, যেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যপ্রণালী ও নেতৃত্বে থাকা শিক্ষকদের সমালোচনা করেন।

রুশাদ ফরিদির ধারণা তার ঐ লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কিছু শিক্ষক তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়।

তিনি জানান আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার করার কারণে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রুশাদ ফরিদি মন্তব্য করেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আমাকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে, শিক্ষকরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে খুব দ্রুত এই দ্বন্দ্বের সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু আমাকে বিব্রত করার জন্যই তারা এটি দীর্ঘায়িত করছেন।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী বলছে?
রুশাদ ফরিদির অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে বলে বিবিসিকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান।

তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে আমি এতটুকু বলতে পারি যে, তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিষয়টি আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। কিন্তু যেহেতু এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়, তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তার বিষয়ে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কেউ জানতে চাইলে জানতে উপাচার্যের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে।”

“প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিষয়ে অসংখ্য রিট হয়। এগুলো নিয়ে আমাদের আইন বিষয়ক অফিস কাজ করে।”






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*