পথিকের পথো কথা শুনতে মানা নেই

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:31 AM, 19 November 2019

সাইফুল ইসলাম বাবুল

 

দেশ – কাল যেনো অস্থিরতায় ডুবে আছে। চারিদিকে কেমন জানি গুমোট ভাব। কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল শীতের আগমনী বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। হত্যা, রাহাজানি দলাদলিতে ব্যস্ত। অন্যদিকে চলছে শুদ্ধি অভিযান। সাদা কাপড় ওয়ালারা নাখোশ হলেও আমজনতা খুশি তবে দেখাতে পারছে না কারণ কোনো কোনো জায়গায় তারা একাই একশো। তাই মাননীয় নেতৃবৃন্দ ধরেই নিয়েছেন এতো জনতার জঘন্য জিলানীর চেয়ে গুটিকতেক সাদা কাপড় ওয়ালা পালনে অনেক লাভ। তারা সব অবৈধ নিয়ন্ত্রণ করে মাননীয়কে টাকা এনে দেবে।

 

টাকার বড়ই প্রয়োজন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টাকার জয়জয়কার। এই জয়ের পথে ইহকাল-পরকাল খেয়ে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করা যাবে। আগামীতে মসৃন সিড়ি নাও থাকতে পারে তাই আবার চড়তে হবে জনতার ঘাড়ে। জনতা যদি বলে বসে সাদা কাপড় ওয়ালার ঘাড়ে পড়েন আমাদের ঘাড়ে বড়ই ব্যাথা। আমরা দুঃখে কষ্টে দিনাতিপাতে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম একটু খেয়াল করেনঃ- সভা সমিতি মিছিল-মিটিংয়ে আগ্রহ নিয়ে, ভালোবেসে চেতনা নিয়ে কেউ যায় কিনা? শুধু স্বার্থের জন্য যায়, না গেলে নিতান্তই নয় তাই যায়।

 

এখন দেখা যায় ওই বিশেষ ব্যক্তি গুলো হায়েনার মতো পাহারা বসায়। যেনো কোনো সত্যবাদী বাচাল মুখ ফসকে কিছু বলতে না পারে। মাননীয় রা ঐ বিশেষ ব্যক্তিবর্গ কে এমন ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করেছে মনে হয় তারা যেনো ব্রিটিশ আমলের R.S এর খুটি। তবে বিশ্বাস করে লাভ নেই এখন সেই খুটিও কালোবাজারে বিক্রি হয়। একেকজনের হাতে কয়েকটি পদবী এতো লোক থাকতে ঐ সব ব্যক্তিদের একাধিক পদে পদায়নের কি দরকার? পেকুয়ায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে দেখা গেলো সকালে একজন বিকালে অন্যজন নাম কিন্তু ঠিকই একটি। সারা জীবন দল করলো অথচ সাইড লাইনে।

 

কারন নিজস্ব হোমরা-চোমরাদের জায়গা তো দিতে হবে। দেন দিতে দিতে ”ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়।” শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে যার কষ্ট তাকে বানানো হল শিরোমণি। শোভন পাঞ্জাবী পড়ে চোখে চশমা এটে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। গুপ্তচরের মতো টাকার সন্ধানে ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কখন একটা পথ পায় টাকা কামানোর। গোটা জনপদে তিন চাষ দিয়ে তারা কোটিপতি। বিশাল দালান,, মার্কেট, জমিজমা, ফ্ল্যাটের মালিক খুঁজে দেখুন নিকট অতীতে তার চাকুরী কিংবা বৈধ ব্যবসা ছিলো কিনা?

 

তাই দাবি করছি শুদ্ধি অভিযান একটু তৃণমূলে আনার জন্য। না হয় তারা এখনেও আগুন লাগাবে। মাননীয় নেতৃবৃন্দের হাতছানি একটু সরিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন জনতার রোদ্ররোষে তারা ঘরে থাকলে বের হবে না বের হলে ঘরে ঢুকতে পারেন কিনা? তাই তাদের বলছি তোষামোদী বন্ধ করতে, না করলে ভুল তথ্যের জন্য নেতৃবৃন্দ বিপথগামী হবেন। তারা যেনো মাননীয় নেতৃবৃন্দকে জাদু করেছেন অন্যের দিকে নজর না দেওয়ার জন্য। গোলক ধাঁধাঁ সৃষ্টি করে তারা এখন মানুষ মারার কল বসাইছে। সবাই রাজনীতি করেনা সমাজের একাংশ করে বিভিন্ন দলে বিভক্তি হয়ে। অন্যরা সাধারণ জনতা তারা কতটুকু ভালো আছেন আপনার দলদাশদের অত্যাচারে? আপনার খোপের মুরগি আগে কুড়া খেতো এখন নাকি মাংস খাবে আপনার বদৌলতে খেতেও পারে।

 

একটু খালি চোখে দেখেন তারা আপনাকে কত দূর নিয়ে যায়। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন হবে এটাই স্বাভাবিক, কমিটি হবে এটাই স্বাভাবিক তাই বলে কেউ বলবে আমি অমুকের আশীর্বাদপুষ্ট তমুকের আশীর্বাদপুষ্ট আমার সন্দেহ হয় অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হয় কিনা? কেনো কেউ তো বলতে পারলোনা আমি নিজের যোগ্যতায় কর্মদক্ষতায় নেতার আসনে বসেছি। প্রশ্ন হলো নেতা কর্মী তৈরি না করে কেনো পুতুল তৈরির কারখানা বানানো হচ্ছে। নেতা বলতে সাধারণভাবে বুঝি… যে ভালো পথ ছিনে যে ভালো পথ দেখায় যে ভালো পথে যায় এইগুলো অনুপস্থিত কেনো? অপূর্ণতা থাকলে জেনে নিতো শিখে নিতো। রুদ্ধদ্বার কক্ষের সবক নিয়ে অন্য কিছু হলেও রাজনীতি হবে না। কূটনীতি হবে।

 

তাই তাদের রাজপথ বাদ দিয়ে পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরির দিলে ভালো হতো। দয়া করে একটু জনতার মুখোমুখি হোউন না পারলে অন্তত তৃণমূল কর্মীদের আশ্বস্ত করুন। প্রত্যেক ঘরে একজন প্রবীণ থাকলে একটি ভরণ থাকে। তাই বলছি এত তারুণ্য কেন? শেষে কিনা কাঁচা তেতুলের মতো খাবার অযোগ্য টক হয়ে যায়। তাই দুই একজন পাকা প্রবীণ আশা করছিলাম। তবুও আশা করবো যা হবার হলো। কানা ছেলে হলেও আমাদের কাছে পদ্মলোচন। আশার ধন আপনাদের মন্দ বলবো প্রশংসা করবো তারপর চাইবো ভালো কিছু করতে। একটু হিংসা জেদ ত্যাগ করে এক কাতারে এসে এই জনপদকে সুন্দর করতে। এতো কিছুর পরও আপনাদের কল্পতরু মনে করছি। সবকিছু নেবোনা একটু স্বস্তি নেবো। মুক্ত বাতাসের নিঃশ্বাস নেবো। দয়া করে একটু দিন। পথিকের পথো কথা মাইন্ড করবেন না।

 

আপনার মতামত লিখুন :