Main Menu

পদবী বনাম নৈতিকতা

সম্পাদকীয় কলামঃ 

লেখক লুৎফুর রহমানের “জীবন ও কাজ” প্রবন্ধের মূল বিষয় নিয়ে শুরু করছি। নিকৃষ্ট রক্তপিন্ড দ্বারা গঠিত শরীরে সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় পরিয়ে কী লাভ? যদি তোমার চরিত্র সুন্দর করতে না পারো। তোমার বাবা সীমাহীন সম্পত্তির মালিক। শত শত দাস-দাসী তোমার বাবার সেবা করার জন্য প্রস্তুত। কত কুরমা-পোলাও, বিরিয়ানী তোমার বাবার সামনে হাজির। তারপরও কী বলবে তোমার কোন কাজ নাই? তোমার বাবা কোটিপতি! একটিবার তোমার বাবার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করো, বাবা! তুমি কী কোনদিন তোমার পকেট থেকে নিয়ে অযথা একটি টাকাও নদী বা সাগরে ফেলে দিয়েছো? না ছাড়া উত্তর আসবে না। তাহলে কেন হাজার কোটি টাকার চেয়ে দামী শরীর নষ্ট করে দিচ্ছ? কেন তোমার চরিত্র নষ্ট করে দিচ্ছ? পা থেকে মাথা পর্যন্ত আপাদমস্তক আল্লাহর দেয়া বড় নেয়ামত। কিন্তু কী দেখছি! হাত-পা দিয়ে অসহায়দের উপর নির্যাতন, মুখের ভাষা দিয়ে নোংরামী, কলমের কালি দিয়ে অভদ্রতা, হৃদয় দিয়ে ঘৃণা, সহপাঠীদের দিয়ে নির্যাতন! এটা কী তোমার কাজ? তুমি তো এ চরিত্র নিয়ে দেশ তো দূরের কথা, নিজের পরিবারকেও সাজাতে পারবে না। তাহলে কেন এতো অহংকার! কেন এতো পদলোভী! পদের ভারে যদি তোমার মনকে সুন্দর করতে না পারো তাহলে দামী আসনে বসে আছো কেন? তোমার মতো অমানুষ তো এ আসনের মর্ম বুঝবে না। সময় থাকতে এ আসন থেকে ছিটকে পড়ো, না হয় শিগগিরই তোমার আসন শূন্য হয়ে পড়বে।

প্রথমে চরিত্র সুন্দর করো, তারপর কলমের কালি দ্বারা মানুষের কাছে বার্তা পাঠাও। আহ্বান করো নৈতিকতার পথে। তারপর তোমার আসনে গিয়ে বসো। তাই তো কলম সৈনিক। এর বাইরে তুমি যেতে পারো না। তুমি অপরজনকে ছোট করতে পারো না। এই অধিকার তোমার নেই। প্রথমে নিজকে গড়ো, তারপর দেশকে বা সমাজকে। তুমি হয়তঃ মূল্যবান অপদার্থ হীরা-মুক্তা। এই হীরা-মুক্তা তোমার যত্নে রাখো। কোনো অসুবিধা নেই। তারপরও অপার্থের আচরণ অন্যদের সাথে করা ঠিক নয়।

এই তো লাশের গাড়ি হাজির! হয়তঃ তোমার লাশের গাড়িটি আমাকে টানতে হবে। অথবা আমারটি তোমাকে টানতে হবে। তারপরও কী তোমার চরিত্র সুন্দর করবে না? না করো, সমস্যা নাই। তারপরও অপরকে অপমান করবে না। পরের বিষয়ে নাক গলাবে না। এটি যথার্থ। স্বাধীনতার বুলি উড়িয়ে কোনো লাভ নেই। যদি তোমার মনকে স্বাধীন করতে না পারো। যার সাথে তোমার লেনদেন নাই, তার সাথে তোমার খারাপ আচরণ কেন? এ অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে? সাবধান!

আমরা তো স্বাধীনতা বিরোধী! তাই তো আমাদের চরিত্র সুন্দর। আর আপনি তো স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। তাই তো নোংরা আচরণ তোমার মনে জায়গা করে নিয়েছে। এবার থামো! আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করেছেন। আর আমি হয়ে গেলাম স্বাধীনতা বিরোধী! হা হা হা! আপনি তো স্বাধীনতার পক্ষের মানব। তাহলে আপনার দলীয় ধার করা একটি পদ ছাড়া আর কি প্রমাণ আছে? উত্তর দেয়ার সাহস নাই। কারণ ভেতরে খালি।

ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না। নিজের নৈতিকতা ঠিক করতে না পারলে ছোট গালে বড় কথা বলা বন্ধ করো। মনে রাখা উচিত, আইন সবার জন্য সমান। কেউ কারো চেয়ে কম নয়। আজ নয় কাল জয় হবেই। তবে তা হবে গণতান্ত্রিক জয়। হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে- মানুষ চিরুনীর দাঁতের মতো সমান। কেউ কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠ হতে পারে শুধুমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমে।

আসুন, নৈতিকতা অর্জন করার চেষ্টা করি। তারপর এমনিতেই চরিত্র সুন্দর হয়ে যাবে। তখন পদের লোভে আর কাউকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে না।

লেখকঃ এম, রিদুয়ানুল হক (এমএ)
শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*