পাবনার চলনবিলে শতশত হেক্টর বোরো ধান ডুবে গেছে

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:53 PM, 02 June 2020

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি :

শস্য ভান্ডার খ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলে এবার ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উঠতি বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক। তাদের সেই স্বপ্ন তলিয়ে গেছে জোয়ারের ও বৃষ্টির পানিতে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে কয়েক দিনের বৃষ্টির পর জোয়ারের পানি নদী দিয়ে ঢুকে পড়েছে চলনবিলে।

এতে উপজেলার খলিশাগাড়ী বিল, আফরার বিলসহ নলডাঙ্গা, ছাইকোলা, হান্ডিয়াল, বোঁথরসহ বিভিন্ন এলাকার বিলের ধান তলিয়ে গেছে। ধানের সাথে তলিয়ে গেছে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন। তলিয়ে যাওয়া ধান নিয়ে কৃষক পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে কৃষি শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে ৩০ ভাগ জমির বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষক। বাকি ৭০ ভাগ ধান নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন তারা। এরই মধ্যে জোয়ারের পানি গুমানী নদী ভরে বিলে ঢুকে পাকা বোরো ধানের জমি তলিয়ে দিয়েছে। এরআগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফালের কারণে একদফা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এবার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি। ৭০০ টাকা মজুরী দিয়েও কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি শ্রমিক সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক।

এমতাবস্থায় ঝড়, শিলাবৃষ্টি আর পানি বাড়ার আশংকা নিয়ে চরম দৃশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষক। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার চাটমোহরে ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলনে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

কিন্তু হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধিকে বিলের ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হান্ডিয়াল গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, এখনো পুরোপুরি ধান পাকেনি। তবে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধানের ফলনও ভালো। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি ধানের ক্ষতি করেছে। আকাশে মেঘ, রোদ মিলছে না। কামলা (কৃষি শ্রমিক) না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। কী হবে আল্লাহই জানেন।’ বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক আঃ মতিন কললেন, হঠাৎ করেই গুমানী নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেছে। নদীর পানি এখন বিলে ঢুকছে।

উপজেলার খলিসা গাড়ী বিলের শতশত বিঘা ধানের জমিই এখন পানির নিচে। কিন্তু সরকারের জোলার সুইস গেট বন্ধ করে না দিলে সব ধানই ডুবে যাবে। আরেক কৃষক আঃ মমিন বললেন, তাড়াহুড়া করে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু কামলা মিলছে না। করোনাভাইরাসের কাণে অনেকেই আর ধান কাটতে আসছে না। নিজেরাই যতদুর সম্ভব ধান কাটছি। কিন্তু ঝড়, বৃষ্টি আর পানি বাড়ার কারণে ধানের বেশ ক্ষতি হবে।’ ছাইকোলা গ্রামের কৃষক সিদ্দিক আলী জানান, আবাদকৃত ধান নিয়ে তারা বিপদে আছেন। কীভাবে ধান ঘরে তোলা হবে সেই চিন্তা সবার মধ্যে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, চাটমোহরে এবার হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার ধানের ফলনও বাম্পার। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকরা জানান, দিকশির বিল, খলিশাগাড়ী বিল, নলডাঙ্গা, ছাইকোলাসহ বিভিন্ন বিলের জমির ধান তলিয়ে গেছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, হঠাৎ জোয়ারের পানি বেড়ে গিয়ে বিলে পানি ঢুকেছে। উপজেলার কিনু সরকারের জোলা দিয়ে নদী থেকে বিলে পানি ঢুকছে। এখানকার স্লুই গেট বন্ধ করার জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান জানান,ফসলের ক্ষতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিনু সরকারের জোলার স্লুইস গেটটি বন্ধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :