পেকুয়ায় জিম্মিদশা থেকে তিন সাংবাদিককে উদ্ধার; নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:34 AM, 28 May 2020

পেকুয়া প্রতিনিধি
পেকুয়ায় তিন সাংবাদিককে জিম্মী দশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় প্রহৃত ও মারধরের শিকার এক সাংবাদিককে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পাহাড়ের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তিন সংবাদকর্মীকে জিম্মী করে একটি ডিএসএলআর ক্যামরা, দুটি মুঠোফোন, পরিচয়পত্র লুট করে। খবর পেয়ে দু’শতাধিক স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। এসময় হামলার শিকার ও জিম্মী অবস্থায় থাকায় তিন সাংবাদিককে দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার করেছে।

২৭ মে (বুধবার) বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া উত্তর আধাঁরী সেগুনবাগিচা দুর্গম পাহাড়ী স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সংবাদকর্মীর নাম শাহজামাল (২৭)। তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব গোঁয়াখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৈনন্দিন পত্রিকার কর্মরত পেকুয়ার প্রতিনিধি। প্রহৃত অপর সংবাদ কর্মীর নাম মো: নাজিম উদ্দিন (৪০)। তিনিও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ববিলহাসুরা গ্রামের আশরাফ মিয়ার ছেলে। তিনি জাতীয় দৈনিক অবজারভারের পেকুয়া প্রতিনিধি।

একই ঘটনায় সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেমকে তুলে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ের দুর্গম জায়গায় প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। তিনি উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মাবুদের ছেলে। দৈনিক সাঙ্গু, দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিবিসি একাত্তরের কর্মরত পেকুয়ার প্রতিনিধি।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন সংবাদ সংগ্রহ করতে তিন সংবাদকর্মী বেলা ১২ টার দিকে শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া উত্তর আধাঁরী সেগুনবাগিচা নামক স্থানে পৌছে। কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ লুট করছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে ওই স্থানে গিয়েছিলেন।

এসময় তারা তথ্য সংগ্রহ ও ছবি ধারণ করছিলেন। মুহুর্তের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেশীয় তৈরী ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে চার জন নাম উল্লেখিত সন্ত্রাসী ও অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন সহ ৬/৭ জন অস্ত্রধারী সংবাদকর্মীদের দিকে ধেয়ে আসে। এ সময় ধারালো দা দিয়ে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য তিন সাংবাদিক পিছুনির দিকে দ্রুত সটকে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত ও হিংস্র প্রকৃতির বর্বর সন্ত্রাসীরা দু’সংবাদকর্মীকে মারধরসহ প্রহৃত করে।

অপর সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেমকে টানা হেচড়া করে পার্শ্ববর্তী দুর্গম পাহাড়ের দিকে ধরে নিয়ে যায়। দু’সাংবাদিকের কাছ থেকে একটি ডিএসএলআর ক্যামরা যার আনুমানিক মূল্য ৫৫ হাজার টাকা ও দুটি এন্ড্রয়েড মুঠোফোন মূল্য ৪০ হাজার টাকা লুট করে। সাংবাদিকদের দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তারা।

খবর পেয়ে জারুলবুনিয়ার বাসিন্দা আলী হোসেন সওদাগর, জয়নাল আবেদীন, জাহাঙ্গীর আলম, সালাহ উদ্দিন, নুরুল হাকিমসহ কয়েকজন ১ম দফায় অবরুদ্ধ সংবাদ কর্মী মুহাম্মদ হাসেমকে উদ্ধার করতে ওই স্থানে পৌছে। এসময় স্থানীয়দের দেখতে পেয়ে হামলাকারীরা অধিক ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে নুরুল হাকিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো কিরিচ দিয়ে কোপ মারে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কোপটি প্রত্যক্ষদর্শী সালাহ উদ্দিনের পায়ে গিয়ে লাগে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, সেগুনবাগিচার শেখ আহমদের ছেলে আবদুল মালেক, অলি আহমদ, আবদু সাত্তার, আবদু জব্বারসহ একটি সন্ত্রাসী চক্র কয়েক দিন ধরে রিজার্ভ পাহাড় থেকে গাছ পাচার করছিলেন। সংরক্ষিত বনা লের উপকারভোগীরা এ নিয়ে প্রতিবাদ করে। এর জের ধরে ওই সন্ত্রাসীরা গত ১ মাসের ব্যবধানে একাধিক ঘটনা সংঘটিত করে। বাদশাহ মিয়ার ছেলে আবদুল মজিদের বাগান থেকে বিপুল পরিমাণ গাছ লুট করে। আবুল আহমদ মনুর বাগান থেকেও বিপুল পরিমাণ বনজ সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। মনু ও তার স্ত্রীকে সম্প্রতি কুপিয়ে জখম করে অলি আহমদসহ সন্ত্রাসীচক্র। প্রতিবাদ করায় তার বসতবাড়িও গুড়িয়ে দিয়েছে। গত ২ দিন আগে থেকে আবদুল মজিদের বাগান থেকে গাছ সাবাড় করছে। দরিদ্র কৃষক আবদুল মজিদ শিলখালী ইউপির গ্রাম আদালতে বিচার দেয়। এর সুত্র ধরে ভীতি ছড়াতে অলি আহমদসহ ৪ সন্ত্রাসী পাহাড়ে তার বসতবাড়ির সামনে মাটি খুঁড়ে কবর খনন করে।

দ্বিতীয় দফায় খবর পেয়ে দুপুর ২ টার দিকে শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচীসহ প্রায় ২ শতাধিক লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা জনগনের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় নুরুল হাকিম জানান, দ্রুত গিয়ে আমিসহ কয়েকজন সাংবাদকিদের উদ্ধারের জন্য গিয়েছিলাম। আমাকেও দা দিয়ে কুপ মারে। এ কুপ সালাহ উদ্দিনের পায়ে লাগে।

আ’লীগ নেতা জয়নাল আবদীন জানান, এরা ভয়ংকর সন্ত্রাসী। কয়েকটি পরিবার এলাকাছাড়া হয়েছে। আলী হোসেন সওদাগর জানান, তারা আমাদেরকেও আক্রমন করেছে। আমরা শত শত লোকজন গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেছি। ইউপি সদস্য আহমদ ছবি জানান, গাছ কাটতে বারণ করতে আমি চৌকিদার পাঠিয়েছিলাম। আমরা লোকজন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেছি। গ্রাম পুলিশ রমজান আলী জানান, ১ মাসের ব্যবধানে ৩ জন নারী ২/৩ জন পুরুষকে অলি আহমদ গং কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। কয়েকটি পরিবার এদের ভয়ে এলাকাছাড়া হয়ে গেছে।

আবদুল মজিদ জানান, আমার বাড়ির সামনে তারা কবর কুঁড়েছে। অস্ত্র ও কিরিচ নিয়ে ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে আমাদেরকে জিম্মী করে রেখেছে। আমার স্ত্রীও ছেলে সন্তানরা হুমকির মধ্যে রয়েছে।

ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী জানান, আমি খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেছি। আগে মোবাইল ও ক্যামরা বুঝিয়ে দিতে বলেছি। শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন জানান, আমি বলেছি ক্যামরা ও মোবাইল সাংবাদিকদের ফেরত দিতে। আসলে এটি চরম অন্যায় হয়েছে। সংবাদকর্মীরা পেশাদারিত্ব দায়িত্বের জন্য গিয়েছেন। কেন হামলা করবে।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, সন্ধ্যার মধ্যে সাংবাদিকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ক্যামরা ও মুঠোফোন দিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানকে বলেছি। অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
===============
বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির পেকুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, সাংগঠনীক সম্পাদক মোহাম্মদ হাশেম ও শাহ জামাল এর উপর শিলখালী উত্তর আধারী এলাকায় বনদস্যুদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি কক্সবাজার জেলা সভাপতি এম, রিদুয়ানুল হক, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবুুল।

অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :