পেকুয়ায় নারীর সম্ভ্রম বাঁচালো পুলিশ

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:18 AM, 30 July 2020

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সেই অন্ত:স্বত্তা নারীর সম্ভ্রম বাঁচালো পুলিশ। স্বামীকে মামলা দিয়ে করল বাড়ি ছাড়া। অত:পর ওই স্বামীর স্ত্রীকে সম্ভ্রম হানি করতে বখাটে যুবক পৌছানো হয় বাড়িটিতে। দালানের ছাঁদ বেয়ে গভীর রাতে ঢুকে পড়ে বসতবাড়িতে। এ সময় প্রতিপক্ষের স্ত্রীকে কক্ষে একাকী অবস্থায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সম্ভ্রমহানির চেষ্টা চালায়। যুবকের লালসা থেকে বাঁচতে গৃহবধূ চিৎকার করছিলেন।

গভীর রাতে বাড়িতে মহিলার চিৎকার শুনতে পেয়ে বাজারে নৈশপ্রহরীরা ওই স্থানে জড়ো হয়। তবে বিল্ডিং ঘরের দরজার ভিতরে হুক থাকায় তারা সেখানে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই নারী প্রাণপন প্রচেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বখাটেরা ওই নারীকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। এ সময় ৩ মাসের অন্ত:স্বত্তা নারী মারাত্মক আহত হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

তবে ওই নারীর আর্ত চিৎকারে বাজারের নৈশ প্রহরীরা সেখানে পৌছেন। বসতবাড়ির প্রধান ফটকে ভিতরে হুক থাকায় সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হননি। তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। গভীর রাতে পুলিশ সেখানে পৌছেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ধর্ষণ চেষ্টাকারীরা দ্রুত পেছনের দরজা দিয়ে সটকে পড়ে।

২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জখমী নারীর নাম রহিমা বেগম (৩৫)। তিনি সোনাইয়াকাটা গ্রামের নাছির উদ্দিনের স্ত্রী। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন গভীর রাতে নাছির উদ্দিনের বসতবাড়িতে একদল বখাটে ঢুকে পড়ে।

নাছির উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে। একদল সন্ত্রাসী আমার স্বামীর জান মাল বিপন্ন করার কৌশলে মেতেছে। এর সুত্র ধরে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে একাধিকবার প্রাণনাশ চেষ্টা চালায় আমার স্বামীকে। আবুল কালামের ছেলে নুরুল আজিম ও কয়েক জন বখাটে আমাকে একাধিকবার কু-প্রস্তাব দেয়।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে নুরুল আজিমসহ ২/৩ জন অজ্ঞাত যুবক আমার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। বিল্ডিংয়ের ছাঁদ দিয়ে তারা আমার কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় আমাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। আমি ইজ্জত বাঁচাতে কাকুতি মিনতি করি। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে কাপড় টানাটানি করে। আমি সম্ভ্রম বাঁচাতে স্বজোরে চিৎকার দিই। বাজারের নৈশপ্রহরীরা বাহির থেকে চিৎকার করছিল। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল, ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারে। আমি ৩ মাসের অন্ত:স্বত্তা। মূলত আমার স্বামী নাই ওই সুবাধে তারা আমাকে নষ্ট করতে এসেছে। মানুষ না আসলে অস্ত্র ও আরও অন্য কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে আরেকটি মামলার কু-পরিকল্পনা ছিল। রাতে থানা পুলিশের এ,এস,আই জাবেদ স্যার এসে আমাদেরকে কু-পরিকল্পনা থেকে বাঁচান।

টইটং বাজারের নৈশ প্রহরী রিদুওয়ান, আসহাব উদ্দিন জানায়, চিৎকার শুনতে পেয়ে আমরা নাছিরের বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাড়িটি এখনো নির্মাণাধীন। পেছন দিয়ে কে বা কারা পালিয়ে গেছে সেটি সঠিক। বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাঝি জানান, আমি পুলিশকে খবর দিয়েছি। এ,এস,আই জাবেদ স্যার এসেছিল। টইটং বাজারের মার্কেটের মালিক আহসান চৌং জানান, আমিও গিয়েছিলাম। আসলে শত্রুতা হচ্ছে।

একজন মানুষের পিছনে সবাই শত্রুতা করলে তার পক্ষে ঠিকে থাকা কঠিন বিষয়। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :