বর্ণবৈষম্য : ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি থেকে বাদ ‘ফেয়ার’ শব্দ

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:59 PM, 25 June 2020

গায়ের রং বড় বালাই। শ্যামবর্ণ হলে কারো নেকনজরে পড়াই কঠিন। কিন্তু ত্বক যদি উজ্জ্বল হয়, গায়ের রং ফেটে পড়ে, তাহলে আপনার চেয়ে আকর্ষণীয় আর কেউ নেই। ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপনের মোদ্দা কথাটা ছিল এমনটাই। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে বিতর্ক। কিন্তু এবার সেই বিতর্কের আগুন এতটাই তীব্র যে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ থেকে ‘ফেয়ার’ শব্দটিই বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল হিন্দুস্তান ইউনিলিভার।

ফেয়ারনেস ক্রিমের এই ব্র্যান্ডটি ভারতীয় বাজারে পৌঁছে দেয় হিন্দুস্তান ইউনিলিভার। তাদের তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, ব্র্যান্ডের নাম থেকে ফেয়ার শব্দটি সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। শিগগিরই ক্রিমের নতুন নাম জানানো হবে। একইসাথে বিজ্ঞাপনের ভাষাতেও আনা হবে বদল। ত্বকের যত্ন নেয়ার কথা তুলে ধরা হবে। এককথায় গায়ের রং দিয়ে আর সৌন্দর্যের বিচার করা হবে না।

এই ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ফেয়ার বা ফেয়ারনেস, হোয়াইট বা হোয়াইটনিং এবং লাইট অথবা লাইটেনিং শব্দগুলির উপর অত্যন্ত জোর দেয়া হয়। এমনকী, এই ক্রিমের ব্যবহারে কীভাবে আপনার ত্বক ফর্সা হয়ে যায় তা, ‘ফেয়ারনেস স্কেল’ দিয়ে মেপেও দেখানো হত। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রোডাক্টটির প্যাকেজিং থেকেও এই বিষয়গুলি সরিয়ে দেয়া হবে। এমন কোনো প্রচার আর ব্যবহার করা হবে না। বিউটি অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার-এর প্রেসিডেন্ট সানি জৈন বলেন, ‘আমরা সৌন্দর্যের সংজ্ঞাকে অন্যভাবে ব্যক্ত করতে চাই। ‘ফেয়ার’, ‘লাইট’-এই শব্দগুলো বড্ড একপেশে। এ দিয়ে সঠিকভাবে সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা হয় না। তাই এই প্রোডাক্ট শুধুমাত্র ত্বকে যত্নের কথা বলবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকেই বর্ণবৈষম্য নিয়ে উত্তাল হয়েছে গোটা বিশ্ব। প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিনোদন থেকে খেলার জগতের তারকারা। তারই মধ্যে সম্প্রতি রোষের মুখে পড়ে সাদি ডট কম এর স্কিন কালার ফিল্টারটিও। তুমুল সমালোচনায় বিদ্ধ হয়ে শেষমেশ সেই ফিল্টারটি সরিয়ে দেয় এই ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট। এবার বর্ণবৈষম্য ঘোচাতে বদলে যাচ্ছে বহু বছরের প্রোডাক্ট ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র পরিচয়ও।

আপনার মতামত লিখুন :