ভারি বর্ষনে চট্রগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:48 PM, 21 July 2020

জামাল হোছাইন, বিশেষ প্রতিনিধি, চট্রগ্রাম।
২১ জুলাই, ২০২০

বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামে ভারি বর্ষনের ফলে নগরীর অনেক এলাকা পানির নিচে। গত কয়েকদিন ধরে বর্ষার বৃষ্টির কারনে চট্রগ্রাম নগরীর এই দুর্দশা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় অনেক এলাকা পানির নিচে। বিশেষ করে বানিজ্যিক এলাকা খ্যাত আগ্রাবাদ এলাকা বৃষ্টির ফলে দীর্ঘ সময় পানির নিচে ছিল। জুলাই ২১ তারিখ মঙ্গলবার আগ্রাবাদ এলাকার এই চিত্র দেখা যায়। আগ্রাবাদের আশেপাশে বিশেষকরে বাদামতলীর মোড় থেকে কমার্স কলেজ পর্যন্ত এবং মুগলটু্লি, পুর্বমাদারবাড়ি পানির নিচে ছিল। ঐসমস্ত এলাকায় যাদের বাসা বাড়ি নিচ তলায় তারা প্রচুর কষ্টে দিনযাপন করছেন। তাদের কাজ কর্ম ও ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

আরো কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিশেষ করে হালিশহর এলাকার ওয়াপদার মোড়, বড়পুল, নয়াবাজার এবং নগরীর চকবাজার এলাকা, চাকতাই খাতুনগঞ্জ এলাকা, নাসিরাবাদ, চান্দগাও এবং কাপ্তাই রাস্তার মাথা পানির নিচে ছিল। এসমস্ত এলাকায় বৃষ্টির ফলে জনগনের ভোগান্তির চিত্র ফুটে ওঠে।
প্রতি বছর বর্ষার সময় চট্রগ্রাম নগরীর এই চিত্র দেখা যায়। বি‌শেষকরে ঐসমস্ত এলাকায় যারা হকার ব্যবসা করে সংসার চালান বর্ষা মৌসুমে তাদের ভোগান্তির কোন শেষ থাকে না। বর্তমান করোনা মহামারির কারনে এই ভোগান্তি আরো চরমে পৌঁছেছে। ঐ সমস্ত এলাকায় আরো দেখা যায় রাস্তা পানির নিচে থাকায় জনগনের চলাচলে অনেক অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে। অনেকে ড্রেনের মধ্যে পড়ে আহত হয়েছেন।

বৃষ্টির কারনে এই জলাবদ্বতা বিষয়ে পথচারী এবং সচেতন মহলের সাথে কথা বলতে গেলে ওনারা নগরের মেয়রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, প্রতিবছর চট্রগ্রাম নগরীকে বর্ষা কালে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নগরবাসীকে এই অভিশাপ থেকে কোন প্রতিনিধি রক্ষা করতে পারে নি। তারা আরো বলেন, দখলদারেরা খাল, নদী নালা জবর দখল করে ভরাট করে আবাসন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। যার ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি যথাসময়ে কর্ণফুলী নদী কিংবা সাগরে চলে যেতে পারে না। আর কিছু অবচেতন জনগন তাদের ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনা নালা ফেলার কারনে বৃষ্টির পানি যেতে বাধাগ্রস্থ হয়। যার ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে চট্রগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে থাকে।

এই বিষয়ে চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র জনাব আজম নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে উনার সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।
সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তার কথা বলে জানা যায় প্রতিবছর বর্ষার সময় আসলে নগরবাসীকে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমরা যথা সাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি দখলকৃত খাল, নদী উদ্ধার করে এবং নালা নর্দমা পরিষ্কার করে বর্ষায় যেন নগরবাসির ক্ষতি না হয় সে ব্যবস্থা করতে। এই বিষয়ে সরাকারেও সুনজর আছে। অনেক এলাকায় নালা বড় করে তৈরি করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে জন দুর্ভোগ না হয়। তিনি আরো বলেন নগরবাসীকে আরো সচেতন হতে হবে। ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা যাবেনা। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে এবং নদী নালা দখল রোধ করতে হবে। এতে করে বর্ষাকালে নগরবাসীকে পানির নিচে থাকতে হবেনা। তিনি এই সমস্যা নিরসনে নগরীর সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জন দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :