মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন নিয়ে কনফিউশন সৃষ্টি হয়েছে: মেয়র তাপস

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:28 PM, 16 June 2020

ডিবি৭১ রিপোর্ট ১৬ জুন ২০২০

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন নিয়ে কিছু কনফিউশন সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেন, “গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন এসেছে। এ নিয়ে কিছু কনফিউশনও সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু আমি মনে করি এখানে কনফিউশনের কোনো অবকাশ নেই। এখানে আমাদের যে লাল জোন চিহ্নিত করে দেওয়া হবে আমরা সেই লাল জোন এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করব। এই প্রজ্ঞাপন পাওয়ার প্রেক্ষিতেই আমরা আজকের এই সভা ডেকেছি”।

মঙ্গলবার দুপুরে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন বিষয়ক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘রেড জোন’ হিসিবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আরও চার-পাঁচ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেন, অতি সংক্রমণের পাড়া-মহল্লা সুনির্দিষ্ট করতেই দুই থেকে তিন দিন লেগে যাবে। তারপরে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে।

মেয়র তাপস বলেন, ‘একটি ব্যবস্থাপনা কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির আওতায় সকলকে নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে বাস্তবায়ন করব। নির্ধারিত ওয়ার্ড বা পুরো এলাকা অবরুদ্ধ না করে শুধু ‘বেশি আক্রান্ত এলাকায়’ লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ করব আমরা। বিশেষ করে জোনিংয়ের মধ্যে লাল জোন নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন, সেটা বাস্তবায়ন করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। যেই এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে জানাবে যে, এই এলাকাটা এই মহল্লাটা বা রাস্তাটা লাল জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেটাকে লাল জোনের আওতায় এনে লকডাউন বাস্তবায়ন করব।’

ফজলে নূর তাপস বলেন, “আশা করছি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় যে সুনির্দিষ্ট এলাকা সেখানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় কাউন্সিলর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।

তাপস বলেন, গাইডলাইনে আমরা পেয়েছি সেখানে যারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে তাদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হবে, যারা আক্রান্ত না তাদেরও কোনো স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজন হলে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। এবং সেখানে অফিস-আদালতসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকবে। এই এলাকায় যারা আছেন তাদের জন্য খাদ্য সেবা এবং যারা দারিদ্র্য সীমার নিচে আছেন তাদের বিনামূল্যে খাদ্য সেবা দিতে আমাদের গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। এটা একটা ব্যাপক কার্যক্রম। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

মেয়র বলেন, ২৮টি এলাকার কথা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। সেই ২৮টি এলাকা বড়, এই বিষয়টা আমরা জানিয়েছি, তারাও অনুধাবন করেছে, তারাও সুনির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড ও অনেক ক্ষেত্রে বড় ওয়ার্ড সেই ওয়ার্ডের সব জায়গায় লকডাউন হোক চায় না। আমরা চাই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কম কষ্ট হয় এমনভাবে যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। যারা শুধু সংক্রমিত তাদেরকে লকডাউনের আওতায় আনতে চাই। বাকি জীবন-জীবিকা স্বাভাবিকভাবে যেন চলতে পারে সেই বিষয়গুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

আপনার মতামত লিখুন :