লামা-ফাঁনিয়াখালীর ছাত্রলীগের সভাপতির অনৈতিক-কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

dailybarta71dailybarta71
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:29 PM, 03 July 2020

স্টাপ রিপোর্টারঃ

দলকে পূঁজি করে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউপির ছাত্রলীগের সভাপতি পল্লী চিকিৎসক শাহাজানের অনৈতিক-কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।বিধায় শাহাজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী ও মূলদল-সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

জানা গেছে,ছাত্রলীগের সভাপতি পল্লী চিকিৎসক শাহাজান ঐ এলাকার পল্লী ডাঃ এনামুল হক ফারুকীর পুত্র।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, গেল জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী হয়ে ২০১৪সালের প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গা পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করেছিল শাহাজান।এরপরও সে অত্র ইউপির ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়।সভাপতি হলেও ডাক্তারী পেশাকে প্রধান্য দিয়ে প্রতিনিয়ত পরকীয়া প্রেম ও জোরপূর্বক অনৈতিক-কর্মকান্ড চালায়।এতে করে উপজাতি সম্প্রদায়-সহ মুসলিম পরিবারের অনেক সংসারের অশান্তি সৃষ্টি করে।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও হয়েছে।যার মামলা নং-(নারী ও শিশু) সি,পি ২৬/২০১৭ইং,জি,আর নং-৭৬/২০১৭ইং ও শাহাজান নিজেই বলৎকার হয়েছে দাবী করে,নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন,যার মামলা নং- ৪৭/২০১৭ইং।এসব ব্যতিত তার ছাত্রলীগের কিছু মাদককারবারি সদস্যদেরকে লালন করে যাচ্ছে শাহাজান।তার অনৈতিক কাজে বাঁধা প্রদানকারী অনেককে দলের প্রভাব বিস্তারে হুকমি দেয়।অত্র এলাকার প্রভাবশালী হাঙ্গামাপ্রিয় ২/১জন লোক তাকে ছায়া দিয়ে রেখে তার কাছ থেকে ফায়দা লুঠে নিচ্ছে বলে,তাকে বাঁধা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।২বছর পূর্বে শাহাজান তার আপন বিবাহিত খালাতো বোনকে বিবাহের প্রলোভন দিয়ে সংসার ভেঙ্গে, দীর্ঘদিন মেলামেশার পরে মোটা অংকের টাকার দাবীতে বিবাহ করেনি বলে জানান তখনকারের এক শালিস কারক।

অভিযোগকারী একজন বিষন্ন ধর এ প্রতিবেদকে জানান,আমার স্ত্রীর সাথে করা ঘটনা সত্য বলে, আমি নিরব থাকার জন্য ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয় শাহাজান।

এবিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউপি আ’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির চৌং,বর্তমান আ’লীগ কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাজী নুরুল আনোয়ার,আইন বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন আহমদ ও ইউপি যুবলীগের সিঃসহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন গংরা সত্যতা স্বীকার করে বলেন,ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পল্লী চিকিৎসক শাহাজানের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আমাদের কাছে আসে।এমন কি তার জন্য অনেক সংসার বিচ্ছিন্ন বা বিচ্ছিন হওয়ার পথে জেনেছি।এছাড়াও গেল রমজান মাসের শেষের দিকেও হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি সংসার নিয়ে বিচার-আচারে ভাঙ্গন সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে।এছাড়াও জামায়ত ও বিএনপি পরিবারের সদস্য দিয়ে দল গঠনের অভিযোগ এবং তার দলের কিছু সদস্য সম্প্রতি সময় মাদক নিয়ে জড়িত হলেও, সে তাদেরকে লালন করছে।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা হয়েছে।এলাকায় ছোট-কাট বিচার আচারে ঘুষ বাণিজ্য করে চলছে বলে তথ্য-বহুল অভিযোগ নিয়ে আসছে সাধারণ জনগন।এতে অত্র এলাকায় নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠে শাহাজানের বিরুদ্ধে।কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।হাই কমান্ডও এবিষয়ে অবগত।হাই-কমান্ডের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।

অত্র ইউপি আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসেন মামুন, যুগ্ম সম্পাদক আবু মোঃ মাঈন উদ্দিন ও দপ্তর সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন বলেন,ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাজানের অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে অডিও ও ভিডিও রেকড ফেসবুকে আমরা যাহা শুনেছি।সবাইতো এটি শুনেছে।তবে এধরণের বিষয়ে সামাজিক বৈঠকে আমাদের সভাপতি গিয়েছিলেন।বিধায় এর ভাল-মন্দ উনি বেশী জানবে।তাই আপনি ইউনিয়ন সভাপতির সাথে যোগাযোগ করলে বিস্তার জানবেন বলে জানান
যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউপি আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল হোছাইন চৌধুরী বলেন,আমার ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাজান ছেলেটি ভাল না।তার সম্পর্কে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ এলাকার অনেক লোক নালিশ দিয়েছে।ঘটনা সত্য,তাই লকডাউন শেষ হলে উপজেলা কমিটি নিয়ে বসে,তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে জানিয়েছেন।
অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত শাহাজান সাথের যোগাযোগ করলে,তিনি বলেন,ফেসবুকে ভাইরালকৃত অডিও,ভিডিও পোষ্টটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র।এলাকা ও দলের কিছু স্বার্থন্বেষী লোক আমাকে বির্তকিত করতে এসব সাজিয়েছে।তাই এবিষয়ে আইনিভাবে লড়াই হবে,এর প্রক্রিয়া শুরু করেছি।এছাড়া আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো হল,আমাদের জায়গা-জমির বিষয়ে দ্বন্দ্ব লাগলে,এর জের ধরে আমাকে মামলা ফাঁসিয়ে,ফায়দা লুন্ঠে চেষ্টা।তাছাড়া এর পিছনেও স্বার্থন্বেষী লোক জড়িত আছে।আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সব মিথ্যা-বানোয়াট বলে জানান।

একই বিষয়ে লামা উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি মং ক্ল্যা মার্মা বলেন,ফাঁসিয়াখালী ইউপির ছাত্রলীগের সভাপতির অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি,জেনেছি।তাকে এসব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলাম।তবু যখন এধরণের নালিশ আসছে।আমরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না হওয়ার মত লকডাউন শেষ হলে তাকে বহিস্কার করে দেওয়ার জন্য জেলা থেকেও আমাকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন :