• শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

যুবলীগ নেতা আদর এমপির কথিত পিএস পরিচয়ে অল্পদিনে অর্ধশত কোটির মালিক!

Reporter Name / ২৭৪ Time View
Update : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

চকরিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

হাসানুল ইসলাম আদর বয়স ৩০ এর কাছাকাছি। বাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাখিল গ্রামে। সে নিজেকে কখনো এমপির এপিএস, কখনো কেন্দ্রীয় নেতার সাথে সম্পর্ক, কখনো যুবলীগ নেতা, আবার সরকারি বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গভীর সখ্যতার পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম ও প্রতারণা করে আসছে এই আদর। একসময়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় দল পাল্টিয়ে এখন যুবলীগ নেতা বনে গেছেন! এভাবে নানা অপকর্ম করে অল্পদিনে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক বনে গেছে সে।
হাসানুল ইসলাম আদর চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বৈরাখির এলাকার বাসিন্দা মকছুদ আলম মেস্ত্রীর পুত্র। তার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই হাবিবুুল ইসলাম নয়ন সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও তার পিতা মকছুদ ওই ওয়ার্ডের বিএনপির বর্তমান সভাপতি।
জানা যায়, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের দক্ষিণ পার্শে পূর্ব মাইজপাড়ায় বগাছড়ি ছড়ার উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেইলী ব্রিজ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্মমান সামগ্রী ব্যবহারের সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আবদুল মজিদ, মোহাম্মদ উল্লাহ ও মনসুর মহসিন। পরবর্তীতে নির্মাণ কাজে অনিয়মের সংবাদটি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলে ক্ষেপে যান আদর। পরে সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেয় আদর।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, হাসানুল ইসলাম আদর নিজেকে বর্তমান সাংসদ জাফর আলমের পিএস পরিচয় দিয়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের ৪নং যুগ্ম আহবায়কের পদটি বাগিয়ে নেন।
একদিকে এমপির পিএস, অন্যদিকে যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক পদ পেয়ে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আদরকে। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, নদী ও ছড়া খাল থেকে বালি উত্তোলন, ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নেয়াসহ এমন কোন কাজ নেই তিনি করেন না।
তার যুবলীগের পদ নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। দুই মাসের জন্য কমিটি অনুমোদন দিলেও বর্তমানে ওই কমিটির মেয়াদ চার বছর অতিবাহিত হয়েছে। উপজেলা যুবলীগ থেকে বিভিন্ন সময় সম্মেলনের তাগাদা দিলেও নিজেকে বর্তমান সাংসদের পিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে এড়িয়ে যান এই যুবলীগ নেতা।

চকরিয়া থানার সম্মুখে রয়েছে তার আলীশান অফিস। চড়েন পাজেরো গাড়িতে। ওই অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন নানা অপকর্ম। নিজেকে পিএস পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা নিয়মিত অভ্যাস তার। মানুষকে মামলা দেওয়া এবং অব্যাহতি দেওয়ার নামের প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। সে বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষকে, এমনকি নিজ দলের লোকজনকে মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে নিরীহ সাধারণ মানুষকে সে প্রতিনিয়ত হয়রানি করতো। বর্তমানে আদর নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
তার ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পুকপুকুরিয়ায় স্ত্রীর নামে ১৩ কড়া জমি, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ভরামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিসের পাশে ২২ কড়া মূল্যবান জমি ক্রয় করেছেন আদর। মাতামুহুরী ব্রীজের পাশে দুটি পয়েণ্ট, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা, সাহারবিল ইউনিয়নের পরিষদের পাশে ১টিসহ মাতামুহুরী নদীর অন্তত ১০-১৫টি পয়েন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছেন এই আদর।
ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের সামনে তার মালিকাধীন একটি উন্নতমানের সাফারি কেন্টিন রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বনভূমি দস্যুতারও অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে উপজেলার খুটাখালী ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশতাধিক পাহাড় উজাড় করা হয়েছে। রেললাইনের নির্মাণ কাজে বনভূমির মাটি বিক্রি করে সম্পদ প্রচুর গড়েছেন।
এদিকে, খুটাখালী ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেননা। প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। তার অত্যাচারে অনেক পরিবার ঘর ছাড়া হয়েছেন।
হাসানুল ইসলাম আদর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চকরিয়ার কর্মরত চার সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে।
সাংবাদিকরা তার অনিয়ম ও লুটপাটের সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওই যুবলীগ নেতা।

এব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কচির জানান, সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে উশৃঙ্খল আচরণের দায়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কের পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হবে।

হাসানুল ইসলাম আদরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে থানায় জিডি করিনি। আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, তার পরিবারটি বিএনপি সমর্থিত। হাসানুল ইসলাম আদরের আর্থিক অবস্থা এক সময় খুবই দূর্বল ছিল। বর্তমানে নানা অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনেছেন। এলাকায় তার কোন ভিত্তি নেই। সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি তিনি সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জেনেছেন বলে জানান।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোন জিডি বা অভিযোগ দেয়নি কেউ। তবে, সাংবাদিকদের কেউ হুমকি দেওয়ার প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরও ৩জন সাংবাদিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় পৃথক ৩টি সাধারণ ডায়েরী রুজু করা হয়েছে।

জানতে চাইলে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, হাসানুল ইসলাম আদর নামে তাঁর কোন পিএস বা এপিএস নেই। পিএস ও এপিএস হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মো: আমিন চৌধুরী ও সালেহ আহমদ সুজন। এধরণের পরিচয় দিয়ে কেউ কোন অপকর্ম করলে তার দায়-দায়িত্ব আমার নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category