• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
Headline
চকরিয়ায় প্রথম ও সর্ববৃহৎ নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের বর্ষপূর্তি পালিত চকরিয়ায় পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন ওয়ার্কশপ ও সেমিনার কোনাখালী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশী সাবেক ছাত্র নেতা জাফর সিদ্দিকী চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দুই সহোদরের পরাজয় কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা কে অভিনন্দন জানালেন যুবলীগ নেতা সুমন কাউন্সিলর নুরুল আমিন কে অভিনন্দন জানালেন যুবলীগ নেতা সুমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আলমগীর চৌধুরী পুনরায় মেয়র নির্বাচিত রাত পোহালেই চকরিয়া পৌরসভায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ,প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চকরিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোর পূর্বক বসতভিটা দখল চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার প্রসঙ্গে জাহেদুল ইসলাম লিটু

“সমাজ, সামাজিকতা ও ইসলাম” –ওসমান বিন রহিম উল্লাহ

মনসুর মহসিন / ১৪১ Time View
Update : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

“সমাজ, সামাজিকতা ও ইসলাম”

আসসালামু আলাইকুম! প্রিয় দেশবাসী।
বর্তমানে করোনা মহামারিতে আমাদের প্রিয় দেশ প্রায় নিঃশেষ! এর মধ্যে চারিদিকে, খুন,রাহাজানি, মারামারি, বিশৃঙ্খলা প্রায় লেগেই থাকে।
একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা সম্মান প্রায় বিলুপ্ত।
প্রিয় সোনার বাংলায় প্রায় ৯০% মুসলিম হওয়ার পরেও আমরা ইসলামের শিক্ষা জীবন পরিচালনা করিনা।
আমাদের উচিৎ কোরআন ও সহীহ হাদিসের উপর নিজেদের মানিয়ে নেওয়া।
কারণ আমরা সামাজিক জীব। মানুষ একাকী থাকতে পারে না। সমাজবদ্ধ হয়ে থাকতে হয় মানুষকে। আদম (আ.)-কে প্রথম মানব হিসেবে সৃষ্টি করার পর হাওয়া (আ.)-কেও সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে আদমকে নিঃসঙ্গ হয়ে থাকতে না হয়। অতঃপর তাঁদের একসঙ্গে জান্নাতে থাকতে বলা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো, তোমাদের যেখান থেকে ইচ্ছা খাবার গ্রহণ করবে, তবে এই গাছের কাছেও আসবে না, নতুবা তোমরা জালিম বলে গণ্য হবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯)

ইসলামপূর্ব সময়ে মক্কায় চরম বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় বিরাজ করছিল। ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য-ভালোবাসা, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ মানবিকতা হারিয়ে যাওয়ার পথে ছিল। কিন্তু ইসলাম এসে সমাজকে নতুনভাবে সাজাতে থাকে। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে মানুষ পরিণত হয় সোনার মানুষে। তাই সমাজচ্যুত কেউ ইসলামের মৌলিক আদর্শ লালন করতে পারে না। সবাইকে নিয়ে বসবাস করা এবং সংঘবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করাই ইসলামের মূল চাহিদা।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো, বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তর এক করেছেন এবং তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০১)
আমাদের মাঝে শান্তি শৃঙ্খলা ফেরানোর একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে,ইসলামের উপর ১০০% ভাগ আমল করা।
গোষ্ঠীবদ্ধভাবে থাকা মানুষের একটি সহজাত চাহিদা। চাইলেও কেউ একাকী থাকতে পারে না। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসা থাকলে মানুষের জীবন সত্যিকারভাবেই সুন্দর হয়। মানুষের মাঝে নানা গোষ্ঠী ও সমাজ থাকবে। সেখানেই মানুষ বসবাস করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের অনেক জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু, আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞাত ও সর্ববিষয়ে অবগত।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১৩)
মানুষকে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে নানাজনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হয়। পরিবারের সদস্য ছাড়াও অনেক আত্মীয়র সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। তাই জীবনযাত্রায় আত্মীয়দেরও অনেক অধিকার আছে। নিকটাত্মীয়দের অধিকার স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের হক আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আর আপনি আত্মীয়দের হক আদায় করুন।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬)

সমাজজীবনে পরিবার অন্যতম উপাদান। পরিবারে শান্তি-সম্প্রীতি ও ভালোবাসা তৈরির জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে সহাবস্থান ও সম্প্রীতি থাকতে হবে। পারিবারিক শান্তির জন্য সমঝোতা ও সহিষ্ণুতা একান্ত প্রয়োজন। তাই পারস্পরিক ভুলত্রুটি হলেও তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা চাই। পারস্পরিক বোঝাপড়া, পরমতসহিষ্ণুতা ও ধৈর্য পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সত্ভাবে জীবন যাপন করো, তাদের তোমরা অপছন্দ করলে এমনও হতে পারে, তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ তোমাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনের একটি হলো, তিনি তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তাদের কাছে গিয়ে তোমরা প্রশান্তি অনুভব করো, তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুকম্পা ঢেলে দিয়েছেন, এতে চিন্তাশীল জাতির জন্য অনেক নিদর্শন আছে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২১)
তাই আত্মীয়দের বিপদ-আপদ ও কঠিন মুহূর্তে সাধ্যমতো পাশে থাকা মুসলিমের কর্তব্য। অহেতুক অন্যের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়াবে না। কোনো মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ নেই। তাই যত কিছুই হোক, সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা ইসলামের নির্দেশনা। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো মুসলিম অন্য ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা বৈধ নয়। উভয়ে সাক্ষাৎ করে, কিন্তু উভয়ে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। অতএব উভয়ের মধ্যে উত্তম হলো যে সালামের মাধ্যমে আবার কথা বলা শুরু করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৭৭)
ইসলামের মৌলিক পাঁচটি বিধান সমাজজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই মানবসমাজে ইসলামের প্রভাব অনেক বেশি। সমাজজীবনের প্রেক্ষাপটে ইসলামের বিধি-বিধানগুলো আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন। তাই কোরআন-হাদিসের দিকনির্দেশানা ও ইসলামের শিষ্টাচারগুলো সমাজের মানুষের মধ্যে ফুটিয়ে তোলাই মুসলিম হিসেবে সবার কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের তা পালনে সহায় হোন।
আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে একে অন্যের প্রতি, মায়ামমতা, শ্রদ্ধা, ভক্তি নিয়ে চলার তাওফিক দান করুন আমিন।
ভাল থাকবেন সবাই আল্লাহ্‌ হাফেজ।

লেখকঃ হাফেজ ওসমান বিন রহিম উল্লাহ
ইসলামী লেখক ও স্কলারশিপ স্টুডেন্ট তার্কী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category