• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
চকরিয়ায় প্রথম ও সর্ববৃহৎ নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের বর্ষপূর্তি পালিত চকরিয়ায় পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন ওয়ার্কশপ ও সেমিনার কোনাখালী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশী সাবেক ছাত্র নেতা জাফর সিদ্দিকী চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দুই সহোদরের পরাজয় কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা কে অভিনন্দন জানালেন যুবলীগ নেতা সুমন কাউন্সিলর নুরুল আমিন কে অভিনন্দন জানালেন যুবলীগ নেতা সুমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আলমগীর চৌধুরী পুনরায় মেয়র নির্বাচিত রাত পোহালেই চকরিয়া পৌরসভায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ,প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চকরিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোর পূর্বক বসতভিটা দখল চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার প্রসঙ্গে জাহেদুল ইসলাম লিটু

শতাব্দী ছাপিয়ে মুক্তিকামীদের মিছিলে মুজিব দর্শন উচ্ছ্বাস ছড়াবে বিশ্বময়– ব.ই.বাদল

মনসুর মহসিন / ৯৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১


————————————————
      শোকের মাস এবং  মুজিববর্ষ নিয়ে বাঙালী জাতির জন্য  অনেক তাৎপর্যবহ একুশ সালের  অগাস্ট মাস।বৈশ্বিক  মহামারীর কারণে  সীমিত পরিসরে উদযাপিত হলেও মুজিব জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণের আনুষ্ঠানিক দিনপঞ্জি কালের সাক্ষী।  ধ্রুব তারার মতো  চেতনার আলো ছড়াবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।আপন সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে  সভ্যতার  ঊষা লগ্ন থেকে অনেক খ্যাতিমান  মানুষের মধ্যে  কিছু নাম বর্ষ থেকে বর্ষে শতাব্দীর ঐতিহাসিকতার জায়গা দখল করে রয়।জর্জ ওয়াশিংটন,আব্রাহাম লিংকলন,নেলসন ম্যান্ডেলা মহাত্মা গান্ধী, হো চি মিন,  ফিদেল কাস্ত্রো,  মার্ক্স, লেনিন, সুকার্নো, মার্টিন লুথার  সহ বাঙালি জাতির গর্বিত সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম ।কিন্তু   ইতিহাসের এই বরপুত্রগণ দেশ এবং জনগণের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেও কুচক্রী মহল হতে অনেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি।বিরোধী শিবির কতৃক হত্যার স্বীকার হয়ে তাদের নির্দেশিত মত ও দর্শনকে ধ্বংস করতে তৎপর ছিলো সর্বদা। সেই ধারাবাহিকতায়  সাম্রাজ্যবাদী এবং স্বাধীনতার পরাজিত গোষ্ঠী আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে তার সমস্ত নিশানা মুছে ফেলার জন্য  তৎপর  হয়।কিন্তু আজ দিন  যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই বঙ্গবন্ধু দর্শনের গ্রহনযোগ্যতা  উপমহাদেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের মুক্তির কান্ডারী হয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

     যুক্তি এবং  মুক্তবুদ্ধি  চিন্তার  জনক বিশ্বখ্যাত গ্রীক দেশীয় দার্শনিক সক্রেটিস কে ও তাঁর চিন্তাধারা এবং মত প্রকাশের জন্য তৎকালীন  গ্রীক শাসক দোষী সাব্যস্ত করে বিচারের মাধ্যমে হেমলক নামক বিষের পেয়ালা পান করিয়ে মৃত্যু কার্যকর করে।কিন্তু তার মৃত্যুর পরে ও তার দেখানো পথ রুদ্ধ করা যায় নাই।আজকের আধুনিক বিশ্বের চিন্তাবিদদের ধারণা যে,  দুই হাজার বছর ধরে পশ্চিমা দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত ও সমৃদ্ধ করেছে সক্রেটিসের প্রদর্শিত মতবাদ।তবে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হল,তার মৃত্যুর দুই হাজার চার শত পনেরো বছর পরে তার অনুসারীদের করা আপীল মামলায় সক্রেটিস নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হয়।কারণ হিসেবে আদালতের অভিমত, সত্যের সন্ধানে কারও মতপ্রকাশ  অপরাধ হতে পারে না।তাই বলা যেতে পারে  ব্যক্তির মৃত্যু হলেও সৃষ্ট মতাদর্শ নিঃশেষ করা যায় না।

     গনতন্ত্রের জনক বলে পরিচিত  পৃথিবীর সর্বকালের সেরা শাসকদের অন্যতম মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন কে ও হত্যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়।কিন্তু তার  সৃষ্ট  মতবাদের সাথে  বিশ্বের দেশে দেশে  গনতন্ত্রকামী মানুষের মাঝে অমর হয়ে আছেন তিনি । পৃথিবীর গনতন্ত্রকামী মানুষের  মিশিলে প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে আব্রাহাম লিংকনের গনতন্ত্রের সে অমর বাণী গনতন্ত্র হচ্ছে, “জনগণের দ্ধারা গঠিত, জনগণের জন্য  এবং জনগণের সরকার”। তাই বলা হয়, মৃত্যু কি়ংবা হত্যা ব্যক্তির দেহকে বিনাশ করতে পারলেও  সৃষ্ট মতাদর্শ কে ধ্বংস করতে পারে না।কালের পরিক্রমায় সে মহান  ব্যক্তিদের  মানবিক আদর্শ প্রভাবিত করে  শতাব্দী থেকে শতাব্দী।

     বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালী জাতিকে দিয়ে গেলেন স্বাধীন দেশ এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশীয় সংস্কৃতির চেতনায় ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে, আর্থসামাজিক উন্নয়নে “দ্বিতীয় বিপ্লবের” কর্মসূচি।যে মতবাদ কারও নিকট হতে   ধার করা নয়, পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের বাস্তবায়ন কৃত মন্ত্র নয়।ভূখণ্ডের এই জনপদের বাঙালি সংস্কৃতির আলোকে,অসাম্প্রদায়িক,  ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায়  এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নির্ভর সম্পুর্ন দেশীয় মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ধারার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিধান। যেখানে সব শ্রেণির মানুষের অধিকার, সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা,আইন সভায় দেশের সর্ব পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা,দুর্নীতি, কালোবাজারি, শোষণ, সম্পুর্ন বন্ধ করতে প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর বিধি রয়েছে ।

       সর্বোপরি ধনী ও গরীবের ফারাক দুর করে সমাজতান্ত্রিক সমাজ কায়েম করা  হবে।কিন্তু  সে দর্শন আলোর মুখ দেখার আগেই  ব্যক্তি মুজিব কে হত্যা করা হলেও আদর্শীক মুজিব বেঁচে  আছেন, থাকবেন তার প্রণীত দর্শনের সাথে চিরকাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনীতিবিদ মার্টিন লুথার কিং এর ভাষায়, “একজন সত্যিকারের নেতা শুধু   আদর্শ খোঁজে না,সে নতুন  আদর্শের সৃষ্টি করে।”

        দীর্ঘ ইংরেজ এবং পাকিস্তানী উপনিবেশীক শাসনামলের  শোষনের নিমিত্তে প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ শাসন করতে গিয়ে পদেপদে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে  শোষিত মানুষের জীবন জীবিকার মান উত্থান ঘটাতে পারেনি।সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন দেশে অবাধ গনতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে প্রতিবিপ্লবী গোষ্ঠী , পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বহুমূখী সন্ত্রাসী অপতৎপরতায় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তাই বেসামাল পরিস্থিতি মোকাবিলা সহ, সর্ব শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব মুলুক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করে।আর তাতে পুঁজিবাদী শক্তি,  উপনিবেশিক গোষ্ঠীর দালাল, পরাজিত শত্রুদের আতেঁ ঘা লাগে এবং একজোট হয়ে  বঙ্গবন্ধুকে হত্যা  করে।বঙ্গবন্ধু একনায়কতন্ত্র চালু, দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ,এক দেশ এক রাজা  নীতি  সহ ইত্যাদি অপপ্রচার চালায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার এতদিন পরে ও বিভিন্ন  গবেষণা বিশ্লেষণে দেশের এবং বাইরে বঙ্গবন্ধু দর্শনের গ্রহনযোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে দেশ এবং বিশ্ববাসী।গবেষণায় উঠে আসছে যে,বঙ্গবন্ধু দর্শন ভুল ছিল না। বঙ্গবন্ধুই বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি তার  দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের  জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকে অগ্রসর হয়ে গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রকে গ্রহণ করেছেন।যার ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ।

     আমাদের ভূখণ্ড পেরিয়ে ও বিশ্বব্যাপী অনেক গবেষকদের টেবিল থেকে মুজিববাদের বাস্তবমুখী কর্মসূচির প্রশংসা  প্রকাশ হচ্ছে। ।তাই মুজিব কে নিয়ে আমাদের প্রতিটি মানুষের জানা দরকার যে, কি ছিল তার চিন্তা ধারা, কর্মপন্থা।যার জীবনব্যাপী সংগ্রাম, বীরত্ব, সাহস,বিদ্রোহ,বিপ্লব ইত্যাদি।তাই  বিরোধী শিবিরের সমস্ত সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্য মুজিব অধ্যায় পাঠ করা আবশ্যক বলে মনে করেন রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা।

  বিশ্ব পুঁজিবাদ তাদের শ্রেণি স্বার্থ রক্ষার্থে তাদের নিয়োজিত এজেন্ট নিয়োগ করে সর্বহারা শ্রেণির উত্থানে বাধা সৃষ্টি করছে।আর সমাজতান্ত্রিক দেশ সমূহে বিভিন্ন অতিবিপ্লীর বিকৃত তাত্ত্বিক ধারণা মেহনতী শ্রমজীবী সর্বহারা শ্রেণি সাহস হারাচ্ছে।সেই  শোষিত মানুষের কাতারে মুজিব আদর্শ শক্তির অনুঘটক হয়ে সাম্যতা ভিত্তিক সমাজ কায়েমে একনিষ্ঠ  মুজিব সৈনিকরা ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে।
   পৃথিবীতে যতদিন শোষণ থাকবে,শোষিত মানুষ থাকবে বঙ্গবন্ধু তাদের মিছিলে শক্তির উৎস  হয়ে সাহস  যোগাবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বৃটিশ সাবেক  প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড হিথের একটি মন্তব্য উল্লেখযোগ্য    “শোষণের  বিরুদ্ধে মানুষের মুক্তির আকাঙ্খা ও সংগ্রাম যতদিন থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু উজ্জ্বল সূর্যের মত জ্বাজ্জল্যমান থাকবে “। 
      জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
—————————————-
লেখক -বদরুল ইসলাম বাদল
কলামিস্ট। নব্বই দশকের সাবেক ছাত্র নেতা।
Email — badrulislam2027@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category