• শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রচার বিমুখ সাচ্চা নির্মোহ মুজিব প্রেমী — বদরুল ইসলাম বাদল

মনসুর মহসিন / ১৪৩ Time View
Update : শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১


বঙ্গবন্ধু মুজিবের শততম জন্মবার্ষিকী ঘিরে সরকার চলমান বছরকে মুজিববর্ষ  ঘোষণা করে।বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও মুজিব আদর্শ ছড়িয়ে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে    শেখ  হাসিনা সরকার। বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রকাশনা সহ নানা  রকম অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বর্ষ  টি উদযাপিত হচ্ছে।আর  সমস্ত অনুষ্ঠানে উপচে পড়া নেতা কর্মী সমর্থক এবং দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।
   পচাঁত্তরের আগস্ট মাসে  বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া নিষিদ্ধ হয়ে যায় । সামরিক স্বৈরাচার জিয়ার সরকার ও তার দল এবং স্বাধীনতার পরাজিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানাবিধ অপপ্রচার চালিয়ে উনার সব রাজনৈতিক পটভূমি বিকৃত করে উপস্থাপনের মিশন নিয়ে মাঠে নামে।কিন্তু ইতিহাস তার  নিজস্ব পথে সত্যিটা নিয়ে আবর্তিত হয়।দামাচাপা দিয়ে বেশি দিন দাবিয়ে রাখতে পারে  না।বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে হাজার চেষ্টা করে ও পারে নাই।  বাংলাদেশের প্রত্যেক  জনপদে ছড়িয়ে থাকা   বঙ্গবন্ধু প্রেমীরা মুজিব আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে যায় অগ্রসর প্রজন্মের কাছে। তাতে  সহ্য করতে হয় অন্যায়, অবিচার, জেল, জুলুম।  জীবন বাজি রেখে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ দিয়ে মুজিব আদর্শ বাস্তবায়নের অগ্রগন্য ভুমিকা রাখে। ফলে দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যে  ও আজ  শোষিত মানুষের আপোষহীন কন্ঠ মানে বঙ্গবন্ধু  মুজিব এবং উন্নয়ন সম্বৃদ্ধির বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশ।তাই  মুজিব বর্যে সে সকল নেতাকর্মীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধা, ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা  নিয়ে স্মরণ করা দরকার বলে মনে করি।

      বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জেনারেল জিয়ার আমলে রাজনীতি ছিল এক রকম নির্বাসনে। জীবন বাজি রেখে অকুতোভয় কিছু নেতা কর্মী মিটিং মিশিলে দেখা যেতো।কিন্তু আজকের দিনে মিশিল মিটিংয়ে নেতা কর্মীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। যা গননা করা কষ্টকর। উপশহর চকরিয়ায় স্বৈরাচার সাম্প্রদায়িক বিরোধী আন্দোলনের সাথে  বঙ্গবন্ধু রাজনীতি নিয়ে রাজপথে থাকা ছিল আরও কঠিন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালের পর কক্সবাজার -(এক)  সংসদীয় আসনটি গত সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়ের মুখ দেখে নাই  কিংবা স্বৈরাচার সাম্প্রদায়িক  গোষ্ঠীর নীল নক্সার কারণে জিতে আসতে পারে নাই।  তাই গতবারের সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় চকরিয়া পেকুয়া বাসীর জন্য গৌরবের। কিন্তু  এই বিজয়ের  পরিবেশ একদিনে সৃষ্টি হয় নাই। অনেক নেতাকর্মীদের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল এই জয়লাভ।আর এই জয়ের পিছনে বিলুপ্ত প্রায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে যাদের অবদান স্মরণীয়, তাদের মধ্যে  নুরুল কাদের বি কম সাহেবের অবদান অনেক । বি এন পি জামাত তাদের  দুর্গ দাবী করা চকরিয়া -পেকুয়ার রাজনীতির জটিল সমীকরণে উনার ত্যাগ পরিশ্রম এবং সংগঠনের প্রতি ভালবাসা চিরকাল উদাহরণ হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তিনি। যার কারণে রাজাকার বাহিনী তার বাড়ি ঘরে আগুন দেয়  এবং লুঠপাট চালায়। স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করতে গিয়ে জিয়া কতৃক নির্যাতিত এবং কারাবাস করেন তিনি । এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে  মামলা হুলিয়া নিয়ে ও বঙ্গবন্ধু রাজনীতি থেকে পিছু হঠেন নাই।অবিভক্ত চকরিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাকালীন নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।অসম্ভব কর্মী দরদী, দলের  আস্তা ও ঐক্যের প্রতিক ছিলেন তিনি। শ্বশুর বাড়ি থেকে পাওয়া জমিন বিক্রি করে দলের জন্য স্হায়ী অফিসের ব্যবস্থা করেন। নির্লোভ নিরহংকার এই নেতা কোন দিন দলকে ব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার করে নাই। মুজিববর্ষে  প্রয়াত জননেতা নুরুল কাদের বি কম সাহেবকে গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি ।তিনি ০১আগষ্ট ২০২১  তারিখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে  মৃত্যু বরণ করেন।

    কেউ যদি পাহাড় কিংবা সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়। তাহলে যেতে হবে পাহাড়ের সুউচ্চ শিখরে আর সমুদ্রের নির্মল হাওয়ার জন্য সাগর পাড়ে।তেমনি রাজনৈতিক সচেতন  কর্মীদের  সফল নেতৃত্বের সফলতা,ত্যাগ, তিতিক্ষা রাগ অনুরাগ নীতি নৈতিকতা নিয়ে জানতে হলে পড়তে হবে রাজনীতিবিদদের জীবন চরিত্র।আর জানার জন্য পড়তে হবে বই।যেতে হবে তাদের সাহচর্যে।ত্যাগী  নেতাগন প্রচার বিমুখ  হয়।আত্ম প্রচার পছন্দ করেন না।তাই খুঁজে পাওয়া যায় না সহজে  কারণ তারা অন্তরালে থাকতে পছন্দ করেন।তাই পাশের মানুষ হলেও অনেক সময় অনেকের নজরে আসে না। মাষ্টার আবুল হাসেম বি কম এই জনপদের জন্য তেমনি  এক রাজনৈতিক পাঠ।

    প্রয়াত মাষ্টার আবুল হাসেম বি কম আওয়ামী লীগ চকরিয়া উপজেলার সহ সভাপতি। নব্বইয়ের দশকে খুব কম সংখ্যাক নেতা কর্মী মিছিল মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতেন। যে কোন মিছিল মিটিংয়ে আগে আসতেন তিনি  এবং শেষ অবধি বসে থাকতেন। নব্বই দশক থেকে সব আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে।এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে  স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনী চকরিয়ার রাজপথের মিছিল  থেকে অনেক নেতা কর্মীদের সাথে তাকে ও গ্রেফতার করে।আর সেই দিনের গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মুক্তির দাবীর  মিছিলে ছাত্রলীগ নেতা দৌলত খান পুলিশের গুলিতে নিহত হয় । ফলে আন্দোলনের তীব্রতা আরো গতিশীল হয়।ছড়িয়ে যায় পুরা দেশ।যাতে এরশাদের পতন তরান্বিত হয়।  সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেয়ে না খেয়ে  নেতা কর্মীদের সাথে রাজপথেই থাকতেন তিনি ।বঙ্গবন্ধু পরিষদ চকরিয়া উপজেলা শাখা  সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি ।কোন দিন কোন বির্তকিত কাজে নিজেকে জড়িত করে নাই। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। আজকের প্রজন্মের কাছে হয়তো কথা গুলো অবিশ্বাস্য মনে হলে ও বাস্তবতা হল এ জনপদেই আছে  এমনই নেতা যাদের জীবনাচরণ অনুসরণীয়। পদ পদবির আশা করেন নাই কোন দিন। দলের জন্য শুধু দিয়েই গেছেন। বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসা থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূর্নতা করার জন্য কাজ করে গেছেন। মুজিব বর্যে   এ সফল ত্যাগী নির্মোহ নির্লোভ নিরহংকার নেতাদের শ্রদ্ধা না জানানো হলে ইতিহাসের দায়বদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবার নয়।স্যারের সুযোগ্য সন্তান মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগ কক্সবাজার জেলা কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।জননেতা মাষ্টার আবুল হাসেম বি কম 22 আগষ্ট তারিখ  ইন্তেকাল করেন।

   আজকাল সব দিকে দেখা যায় রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে  হতাশা। বিতর্ক। ভুল বুঝাবুঝি। একে অন্যের প্রতি দোষারোপ । দীর্ঘ দিন দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার কারণে  পাওয়া না পাওয়ার হিসাব নিকাশ নিয়ে ব্যস্ত অনেকে । যার ফলে  রাজনীতির প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বিস্তৃত হচ্ছে্।তাতে মেধাবী নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ।যে সমাজে শিক্ষিত মেধাবী নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না সেখানে মুর্খ,সুযোগ সন্ধানী প্রতিহিংসা পরায়ণ মানুষ রাজনীতির শীর্ষ স্থান দখল করে প্রতিভূ মুলুক আচরণে সমাজকে কলুষিত করে।লেখক রেদোয়ান মাসুদের মতে,”রাজনীতি হলো দেশ শাসনে উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের মুল হাতিয়ার কিন্তু যদি ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে আসতে ভয় পায় তাহলে দেশের ধ্বংস অনিবার্য। “।তাই রাজনৈতিক কর্মীদের দরকার রাজনৈতিক শিক্ষা। আদর্শের চর্চা। ত্যাগী নির্মোহ নিরহংকার নেতাদের অনুসরণ করা। উক্ত দুই নেতাদের গুণাবলী  প্রজন্মের জন্য  শিক্ষনীয় অধ্যায় হতে পারে। তাই মুজিব বর্যে বঙ্গবন্ধু আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী  এবং নীতি-নৈতিকতার অধিকারী নেতাদের থেকে   শিক্ষা গ্রহণ করা যায় ।যাতে  নিজের ব্যক্তিসত্ত্বা উন্নয়ন, পরিবর্তন হবে সমাজ, সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবেন আদর্শের প্রতি অবিচল কর্মী। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে সহায়ক ভূমিকা পালনে অগ্রসর সৈনিক হিসেবে মাঠে থাকবে।

  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় বলে থাকেন যে,”রাজনীতিবিদের সব সময় ভাবা উচিত তিনি দেশ এবং জনগণকে কি দিতে পেরেছেন। তিনি কি পেলেন সে হিসাব তাদের করা উচিত নয়।রাজনীতিবিদরা জনগণের সেবক।সেবার মনোবৃত্তি নিয়ে তাদের কাজ করতে হবে”।তাই মুজিববর্ষ  শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মুজিববর্ষে ত্যাগ, উৎসর্গে ও আদর্শের রাজনীতির পাঠ নিয়ে  বঙ্গবন্ধু আদর্শের উদ্বুদ্ধ হওয়ার  অন্যতম শিক্ষা।যার অন্যন্য উদাহরণ আমাদের চকরিয়ার প্রয়াত জননেতা নুরুল কাদের  বি কম এবং প্রয়াত জননেতা মাষ্টার আবুল হাসেম বি কম। আল্লাহ উনাদের জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন। আমিন।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।।
——————————-
লেখক –বদরুল ইসলাম বাদল
কলামিস্ট, নব্বই দশকের সাবেক ছাত্র নেতা
E-mail : badrulislam2027@gmail


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category