• শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

ভোটের হাওয়া; ৭ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধির মতের ঐক্য এবং মাতামুহুরি উপজেলা

মনসুর মহসিন / ১০৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১



   ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক  বাধ্যবাধকতা থেকে কমিশন সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন  সল্প সময়ে  শেষ করার জন্য বদ্ধপরিকর।এখন গ্রামে, হাটে বাজারে,শহরে,  চায়ের দোকান সহ সব জায়গায় ভোটের হাওয়া বইছে। সর্বত্র নির্বাচন নিয়ে  আলোচনা ।প্রার্থী  নিয়ে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ এবং যোগ্যতা অযোগ্যতা নিয়ে সরগরম ভোটাররা। নির্বাচন আমাদের দেশে একটি অন্যতম উত্সব। সাধারণ মানুষ নিজের পছন্দ মতো প্রার্থী খুজে ফিরে। অযোগ্য জনপ্রতিনিধি কে ভোট দানে বিরত হয়ে নিজের মনের রাগ অনুরাগ মিটায়।সর্বোপরি নিজের মৌলিক অধিকার ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করে বাস যোগ্য সমাজ বিনির্মানে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পায়।যেহেতু চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক হয়ে মাতামুহুরি উপজেলা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে।তাই মাতামুহুরি বেষ্টিত উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের দুই লাখ মানুষের জন্য এবারের  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের নেতা বেচে নেয়াটা হল একটি  জনগুরুত্বপুর্ন বিষয়।

         উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।সম্ভাব্য  চেয়ারম্যান মেম্বার প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।দলীয় ভাবে যেহেতু বি এন পি নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত আছে তাই আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য প্রচার প্রচারণা লক্ষনীয়।অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মাঠে আছে। তবে  বি এন পি নির্বাচনে না থাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীরা তাদের জন্য দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে  জিতে আসার জন্য   বড় সুযোগ মনে করছে।তাই আওয়ামী সমর্থক প্রার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো । যে যার মত করে নৌকা   প্রতীকের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়ন মানে নির্বাচনে পাশ হওয়ার টিকেট। তাই বিভিন্ন লবিং,এমনকি   টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ও অনেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া। উপজেলা থেকে  জেলা, এবং নির্বাচন নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী হাইকমান্ড  পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ। তবে সকল দলের অংশ গ্রহণ ছাড়া স্থানীয় সরকারের  সর্বনিম্ন পর্যায়ে ইউ পি নির্বাচন   নিরস প্রাণহীন মনে হয়।শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মাঠে না থাকলে নির্বাচন তীব্র প্রতিযোগিতা মুলক হয় না ।আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত নির্বাচনে অংশগ্রহন না করা বি এন পির জন্য রাজনৈতিক ভুল সীদ্ধান্ত।কারণ আওয়ামী লীগ,  বি এন পি,জাতীয় পার্টি  হল নির্বাচন নির্ভর,  নির্বাচনমুখী দল।দীর্ঘ সময় নির্বাচন থেকে দুরে থাকার কারণে দলের কর্মী সমর্থক ঝিমিয়ে পড়ে। তাই অন্তত দলের কর্মীদের ধরে  রাখতে বি এন পি কে নির্বাচনে অংশ নেয়াকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ধরে নিতে পারতো বলে অভিমত বিশ্লেষক মহলের।

      দার্শনিক দৃষ্টিতে,  “রাজনীতি হলো দেশ শাসনে উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের মুল হাতিয়ার। কিন্ত যদি সমাজের ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে আসতে ভয় পায় তাহলে দেশের ধ্বংস অনিবার্য “।অপ্রিয় হলে ও সত্য আজকের দিনে ভালো প্রার্থী পাওয়া দুস্কর।অথচ জনগণ সত্, সাহসী, শিক্ষিত সমাজসেবা মনোভাব আছে এরকম প্রতিনিধিকে ভোট দিতে চায়।কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে একটি বিষয় প্রায়ই দেখা যায়, কালো টাকার মালিক বা দুর্নীতিবাজরা নির্বাচিত হয়ে আসছে অনেক জায়গায়। যারা ঘুষ খায়, ক্ষমতা পাওয়ার  জন্য পায়ে ধরে আর ক্ষমতায় পাওয়ার পর মানুষকে ভুলে যায় তাদের  পরিহার করে এলাকার উন্নয়ন,যোগাযোগ, শিক্ষা,শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে পারবে  সেই রকম বলিষ্ঠ প্রার্থীকে মনোনীত করা নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।   বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।শিক্ষিত মেধাবী জনপ্রতিনিধি যদি নির্বাচিত হয়ে না আসে তখন দেশের অগ্রযাত্রা বাঁধা গ্রস্ত হয়ে যাবে। তবে দুংখ জনক হলে ও সত্য যে নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোন শর্ত আছে কিনা জানি না। তবে নিজেদের এলাকার গতিশীল উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত  প্রতিভাবান নেতৃত্বকে সম্মিলিত চেষ্টায় জিতিয়ে আনা মঙ্গল জনক।

    সাত ইউনিয়নের দুই লক্ষ মানুষ অনেক দিন  থেকে মাতামুহুরি উপজেলা দ্রুত বাস্তবায়ন চায়।যাহা বাস্তবায়নের পথে প্রক্রিয়াধীন আছে। যদি চলমান প্রক্রিয়া কোন কারণে বাধাগ্রস্ত না হয় তাহলে  দ্রুততম সময়ে মাতামুহুরি উপজেলা আলোর মুখ দেখতে পাবে বলে মনে করে মাতামুহুরি বাসী। কিন্তু তার জন্য দরকার শিক্ষায় মেধায় মননে বলিষ্ঠ জন প্রতিনিধি।সাথে  জনগণের সচেতনতা এবং ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ। যদি কোন অশুভ শক্তির কারণে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয় কিংবা রাজনীতির মারপ্যাচে প্রক্রিয়া টি বন্ধ হয়ে যায় তখন দুই লাখ মানুষের দাবি  আদায়ের জন্য আন্দোলন করা ব্যতিরেকে  কোন উপায় থাকবে না।তাই  সাত ইউনিয়ন বাসীর জন্য এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থী নির্বাচনে ভোটারদের খেয়াল রাখতে হবে যে উক্ত প্রার্থী মাতামুহুরি উপজেলা বাস্তবায়নে  নিজের ভুমিকা রাখতে পারদর্শী কিনা।প্রশাসনিক কাজে  তার অভিজ্ঞতা এবং দুরদর্শিতা আছে কিনা। শুধু চেয়ারম্যান মেম্বার হয়ে বসে থাকলে আগামী প্রজন্মের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য কোন উত্তর থাকবে না।কারণ আগামী পাচঁ বছর মাতামুহুরি উপজেলা বাসীর জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে  রাষ্ট্রীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাতামুহুরি উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এতঅন্চলের অনেক মৌলিক সমস্যার  সমাধান করা  সহজ হবে। কারণ সাত ইউনিয়ন নিয়ে মাতামুহুরি উপজেলা উপকূলীয় জনপদ হিসেবে সরকার ঘোষিত উপকুল ডেল্টা পরিকল্পনা  2021 সুবিধা পাওয়ার আওতাভুক্ত। আবার প্রশাসনিক উপজেলায়  পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্হানীয় সরকার অধিদপ্তরের সমন্বয়  সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে প্রভূত উন্নতি সাধন হবে।ফলে সম্ভাবনাময়ী এই উপজেলা রাজস্ব খাতে অনেক অবদান রাখতে পারবে।

       সাত ইউনিয়ন বাসীর প্রাণের দাবি টিকসই  উপকূল সুরক্ষা বাঁধ। বর্ষাকালে এই জনপদের মানুষের চোখের ঘুম থাকে  না।  পাহাড়ে বৃষ্টির কারণে মাতামুহুরি নদীতে  সৃষ্টি বন্যায় উপকূল রক্ষা বাঁধ যে কোন সময় ভেঙে যাবার ভয় থাকে।ভেসে নিয়ে যেতে পারে বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট,ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের।এই অঞ্চলের মানুষ প্রধানত  কৃষি নির্ভর।তাই বাঁধ  ভেঙে  পানিতে ফসল  তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের চরম অর্থ কষ্টে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে যখন পুরো জায়গা ডুবে যায় তখন জনপ্রতিনিধি গন সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় সহানুভূতি দেখানোর জন্য মানুষের পাশে আসে।  সামান্য কিছু  ত্রাণ দিয়ে নিজেদের জনসেবক হিসেবে জাহির করে।কিন্তু বন্যার পানিতে সম্পদ ক্ষতির  কাছে ত্রাণ সহযোগিতা অতি অপ্রতুল। তাই মানুষ চায় উপকূল সুরক্ষা বাঁধ নিয়ে স্হায়ী সমাধান।উপকূল বাসী ত্রাণ চায় না।অধিকার চায়।গত বর্ষা মৌসুমে ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ছিড়ে গিয়ে লোকালয় পানিতে ডুবে যায়।ভেঙে যাবার আগে এলাকার জনগণের দাবির মুখে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা করার পরও শেষ রক্ষা হয় নাই। বাধঁ ছিঁড়ে যায়।দীর্ঘদিন থেকে মাতামুহুরি নদী বেষ্টিত উপকূল সুরক্ষা বাঁধ টিকসই বেড়িবাঁধ বিনির্মানে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন স্হানীয় জনগন।কিন্তু আশার বাণী ছাড়া দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

       অন্য দিকে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিঃস্কাশন নিয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা শুষ্ক মৌসুমে নেয়া দরকার।কারণ বৃষ্টির পানিতে যখন সবকিছু ডুবে যায় তখন যা ক্ষতি হবার হয়ে যায়।তাই এই সময় জলাবদ্ধতা হওয়ার আগে  প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করি ।আর এই সব জলাবদ্ধতা সমস্যা শুধু এক ইউনিয়ন ঘিরে নয়।তাই সাত ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা  সম্মিলিত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে জনগণ জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করে  এলাকাবাসী।আর উপজেলা মাতামুহুরি বাস্তবায়ন হলে তখন উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউনিয়ন পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সমস্যা দুর করা সম্ভব হবে।

       আইন শৃঙ্খলা সমস্যা। বিভিন্ন সময় নানাবিধ কারণে  আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় থাকে জনপদের জনসাধারণ। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক জায়গায় এখনো অনুন্নত। কৃষি নির্ভর কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজের সুযোগ না থাকার কারণে তরুণ প্রজন্ম বেকার সময় নিয়ে থাকে।অনেকটা বেকারত্ব ও হতাশা থেকে যুব সমাজ নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়ের স্বীকার হয়। অনেকে নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে যায়।  চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী,দখল বাজ বাহিনীর নেটওয়ার্ক সাত ইউনিয়নে একই সুত্রে গাঁথা বলে মনে করে এলাকাবাসী। তাই আইন শৃঙ্খলা নিয়ে সাত ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অভিন্ন কৌশলে সমস্যা নিরসনে কাজ করা সম্ভব।

      জীবন জীবিকা নিয়ে লবণের সাথে এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ জড়িত। অনেক দিন থেকে ন্যায্য দাম  না পাবার কারণে লবনচাষী লোকসান দিয়ে আসছে। তাই লবণ চাষীদের স্বার্থ বিবেচনায় ঐক্য বদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সময়ের উল্লেখ যোগ্য দাবি। তাই মাতামুহুরি বাসীর ভোটার গন মনে করে, সাত ইউনিয়নে  মৌলিক যে সমস্যা তার থেকে উত্তরণে সাত ইউনিয়নের নির্বাচিত দের ঐক্য বদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য দরকার, জনবান্ধন, প্রকৃত সমাজ সেবক, তৃনমূল থেকে উঠে আসা পরিশ্রমী জনপ্রতিনিধি।

       সাত ইউনিয়ন বাসী আশা করে  বর্তমান সরকারের বাকি  মেয়াদের মধ্যে পুর্নাঙ্গ উপজেলা হিসেবে মাতামুহুরি আলোর মুখ দেখতে পাবে।কক্সবাজার -এক (চকরিয়া পেকুয়া) সংসদীয় আসনের মাননীয়  সাংসদ জাফর আলম বিএ (অনার্স) এম এ সাহেবের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল মাতামুহুরি উপজেলা বাস্তবায়ন। তাই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তার মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করি।আর দলের  হাই কমান্ড যোগ্য আদর্শিক কর্মী বান্ধব ত্যাগী নেতার হাতে যেন নৌকা হয় তার দিকে নজর রাখতে তৃনমুলের পক্ষ থেকে আর্জি জানাচ্ছি। মাতামহুরী উপজেলার (প্রক্রিয়াধীন) সাত ইউনিয়ন বাসীর দাবী হল-যারা চেয়ারম্যান মেম্বার হিসেবে নির্বাচন করবেন তাদের মধ্যে  উপকূল বাসীর মৌলিক দাবি সমুহ যেন ইশতেহারে সন্নিবেশিত করেন।কারণ সাত ইউনিয়ন পরিষদের জন প্রতিনিধির একই দাবি এবং দুই লাখ মানুষের আওয়াজ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবার নয়।
     জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
—————————-
লেখক —বদরুল ইসলাম বাদল
নব্বই দশকের সাবেক ছাত্র নেতা।
ঢেমুশিয়া,চকরিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category