• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ন
Headline
চকরিয়ায় নলবিলা বন বিটের বাগান থেকে নিজের বাগান দাবি করে বিপুল গাছ কর্তন শীতার্ত ছিন্নমূল মানুষ এবং অবহেলিত কক্সবাজারের দরিদ্র জনগণ —– সাংবাদিককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন শাহীন সরওয়ার! ডুলাহাজারায় ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে পরিষদে হামলা, ইউপি সচিব, গ্রামপুলিশসহ আহত ৫ চকরিয়ায় দিনদুপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট, আহত-২ চকরিয়া প্রবাসী কল্যাণ একতা সমবায় সমিতির প্রথম বর্ষপূর্তি চকরিয়া ফাসিয়াখালীতে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ৩ জন আটক চকরিয়া বদরখালীতে কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্টাফ কোয়ার্টারে হামলা, মালামাল লুট ঢেমুশিয়া জিন্নাত আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বনবিভাগের ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল মুক্ত

তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ভূমিকাই মূখ্য

Reporter Name / ৮১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

বদরুল ইসলাম বাদল

তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ভূমিকাই মূখ্য।
  —————————-

    দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জীবন যাত্রার মান দিনকে দিন উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে।আর এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা সুশিক্ষিত তরুণ সমাজের দ্বারাই সম্ভব।তারাই দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারী,রাষ্ট্র নায়ক,মন্ত্রী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী সমাজ সেবক সহ ইত্যাদি। । কিন্তু বর্তমানে তথাকথিত আধুনিকতার প্রভাবে ছাত্রছাত্রী তথা তরুণ প্রজন্মের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সমস্যা ভীষণ ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।যেটা সমাজ নিয়ে চিন্তাশীলদের চরম ভাবে ভাবিয়ে তুলছে।  তরুণ প্রজন্মের মাঝে   সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে পরম সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ চর্চা জাগ্রত করতে না পারলে রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ জীবনের অগ্রগতি রুদ্ধ হয়ে পড়বে।
তাই সময় এসেছে তরুণদের  নিয়ে চিন্তা করার।।  

           পর্যটন নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য  যৌক্তিক  কারণে কক্সবাজার শহরের  গোলদীঘি সহ তিনটি পুরানো দীঘির সংস্কার করে নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে । কউকের এই পরিকল্পনাকে  শহরের বিনোদন বঞ্চিত মানুষের   নিশ্বাস নেওয়ার স্থান  হিসেবে মনে করে  শহরবাসী।দিনের বিভিন্ন সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে  ঘুরতে আসে অনেক দর্শনার্থী  । যান্ত্রিক জীবনের ফাঁকে ক্লান্তি দুর করতে  কিছুটা সময় অতিক্রান্ত করে ।বাইরের সৌন্দর্য পিয়াসী পর্যটকদের  আনাগোনা চোখে পড়ার মতো।  তবে নিঃশ্বাস  নিতে গিয়ে বিষাক্ত  কিছু বৈরী পরিস্থিতির  বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন  সময় অনেকের  ।অবসরে যাওয়া স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় জনাব নুরুল ইসলাম স্যারের টাইম লাইন থেকে ধার করে তেমনি একটি  উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।তিনি কক্সবাজার প্রিপ্যারাটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক  প্রধান শিক্ষক ।স্যার একদিন মর্নিং ওয়ার্কং করার সময়ে গোলদীঘির  পাশ দিয়ে যাবার পথে দেখেন,গোলদীঘির পুর্ব দক্ষিণ পাড়ের নিছের সিঁড়িতে  স্কুল পড়ুয়া তেরো চৌদ্দ  বছরের এক কিশোরী এবং পনেরো ষোল বয়সী এক কিশোর  জড়াজড়ি করে ধরে আছে। পরনে স্কুল ড্রেস। অন্য আর একজন ছেলে সে দৃশ্য মোবাইলে ভিড়িও করছে। স্কুল পড়ুয়া কিশোর কিশোরীর  এমন দৃশ্য দেখে তিনি  খুবই মর্মাহত এবং অবাক হয়ে যান।  সে দৃশ্য দেখে শিক্ষক হিসেবে উনার অন্তরাত্মায় কম্পন সৃষ্টি হয়।  সামাজিক এমন  নৈতিক অবক্ষয় মেনে নেয়া উনার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।জাগ্রত হয়  শিক্ষক সত্ত্বা।  কারণ একজন শিক্ষক সব সময়ই শিক্ষক। প্রতিষ্টানের ভিতরে  কিংবা অবসরের পরও নীতি নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে থাকেন। সমাজের যা কিছু ভাল তা তুলে ধরতে এবং অসুন্দর পরিহার করতে  চেষ্টা করেন সব সময়।তাই তিনি ঐ ছেলে মেয়ের নাম পরিচয় প্রকাশ করা থেকে  বিরত থাকেন।অন্যদিকে  শিক্ষক হলেন সভ্যতার ধারক বাহক।তিনি শুধু শ্রেণীতে  পাঠদান করেন না, ছাত্র ছাত্রী দের ভালো মানুষ হতে শেখান। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্বাচনে ও শিক্ষকের ভূমিকা অগ্রগামী।   সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ বিনির্মানে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেন।ব্যক্তি জীবনে ন্যায় ও নীতির চর্চা  করেন বিধায় ছাত্র ছাত্রী দের উন্নত চিন্তার বিকাশ আশা করেন সব সময়।স্যারের টাইম লাইনে মন্তব্য করতে গিয়ে একজন লিখেন যে, দায়িত্ব জ্ঞানহীন অভিভাবকদের আশকারা পেয়ে  কিশোর কিশোরীর বিপথগামীতার  জন্য অনেকটা  দায়ী। তবে শিক্ষক হিসেবে সামাজিক অবক্ষয়ের খন্ডিত চিত্র তুলে ধরে স্যার সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

      কক্সবাজার জেলা শহর পর্যটন নগরী হিসেবে দেশী-বিদেশী পর্যটক আসতে থাকে  সব সময়।ভিন্ন ভিন্ন পর্যটকের ভিন্ন রুচি সংস্কৃতি সভ্যতা।আচার আচরণ এবং পোষাক পরিধান ও বিভিন্ন ধরনের।কিন্তু  নিজস্ব কৃষ্টি  সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই জনপদের উদার রক্ষনশীল মনোভাবাপন্ন মানুষ কক্সবাজারবাসী।প্রগতিশীল সুস্থধারার সাহিত্য  সাংস্কৃতিক বিকাশের পথে  অনেক গৌরবময় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। চলনে বলনে এবং  আচার আচরণ গতভাবে মানানসই ভারসাম্যপূর্ণ সহবস্থানে অভ্যস্ত জনসাধারণ। সুদীর্ঘ  সময় থেকে বসবাসরত ।  কিন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশী বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার মানুষের আনাগোণার কারণে কক্সবাজারের উদার রক্ষনশীল সভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখীন।বিজাতীয় সভ্যতার মিশ্রনে আমাদের রীতিনীতি এবং জীবনাচরণে অনেক অসংগতি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।   যেমন বিদেশি যারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে আসেন তাদের নিজস্বতার সভ্যতার আদলে চলাফেরা, পোষাক পরিধান সেসব তাদেরই ভাল মানায়।কিন্তু বিদেশিদের  অনুকরণ করতে গিয়ে দেশের কিছু শিক্ষিত তরুণ তরুণী তাদের মত করে চলার অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।যাহা খুবই  দৃষ্টি কটু  ।যা অঞ্চলের  সামাজিক সহ অবস্থানের সাথে মেলে না।।তাই আজকাল অনেক অভিভাবক উদ্বীগ্ন।যে গুলো  সুন্দর রুচিশীল সমাজ কাঠামোর অন্তরায়। অপ্রত্যাশিত রং নাম্বার। অশনিসংকেত। তাই আগামী প্রজন্মের সুন্দর বাসযোগ্য জনপদের জন্য মহান শিক্ষকের মর্মবেদনা টি সমাজের জন্য একটি সতর্ক বার্তা অনস্বীকার্ষ। কারণ এভাবে চলতে থাকলে নিজস্ব  সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম।। তাই অভিভাবক,   শিক্ষক, সমাজসেবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সহ সবাইকে আন্তরিক ভাবে এগিয়ে  আসতে হবে। নিজেদের সংস্কৃতির  সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

     একদিন বাস টার্মিনাল থেকে টমটমে করে  লালদীঘি  আসার সময়ের একটি বিষয় শেয়ার করতে চাই ।টমটমে আগে থেকে একজন ভদ্রমহিলা এবং পনের ষোল বয়সী একটা ছেলে বসা আছে। তাদের কথায় যতদুর মনে হল তারা সম্পর্কে মা ছেলে।ছেলেটার হাতে একটা স্মার্ট মোবাইল। হঠাৎ ছেলেটার ফোন বেজে উঠলো।কিন্তু ছেলেটা রিসিভ করে না।বারবার রিং হচ্ছে। রিসিভ করে না। ছেলেটিকে মা ফোন রিসিভ করার জন্য তাগাদা দেয়ার পরও ছেলে ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকে ।তখন মা ছেলেকে জিজ্ঞেস করে, তোর  এমন কে আছে  যার ফোন আমার সামনে রিসিভ করা যায় না?।মা-র কথায় ছেলেটা খুবই বিব্রত বোধ করে এবং মা র প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে।তখন  মা রাগান্বিত হয়ে বলে, “বাড়ি চল আজ দেখাচ্ছি মজা।তোর বাবাকে বলবো এবং মোবাইল ব্যবহারের সাধ মিটিয়ে দেব”।তাতে মনে হল ছেলেটা খুবই ভয় পেয়ে যায়। তখন আমি ভদ্রমহিলাকে বললাম,সাধুবাদ জানাাই আপনাকে।  আপনার মত মায়ের সন্তান কোন দিন বিপদগামী হতে পারবে না।সকল মা বাবার  আপনার মত হওয়া চাই। সন্তানদের শাসনে রাখার জন্য।তরুণ প্রজন্মের  ভবিষ্যৎ সুন্দর এবং  নীতি নৈতিকতা নিয়ে তৈরী করার জন্য মা, বাবা, বড় ভাইবোনদের তদারকি স্নেহ, ভালবাসা, পরামর্শ  অনেক গুরুত্ব বহন  করে।

         মহামারির দুর্বিষহ সময়ে সামাজিক অস্থিরতায় আমাদের তরুণ সমাজকে দীর্ঘ দিন স্বাভাবিক লেখা পড়া এবং লেখাধুলা থেকে বিরত থাকতে হয়।ফলে সময় কাটানোর জন্য স্মার্ট মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোগ্রামের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। ফেইসবুক ইউটিউব সহ আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে তাদের  মোহনীয় কাল্পনিক জীবনের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলে।তাই সঙ্গত কারণে অভিভাবকদের টিনএজের প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব শীল হতে হবে। সব সময় খোঁজ খবর রাখতে হবে।স্মার্ট মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তরুণদের হাতে তুলে দিতে হবে বই, পত্রিকা ।পাশাপাশি পারিবারিক পারস্পরিক  মজবুত বন্ধন এবং অভিভাবকদের আন্তরিকতা।আর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেশ প্রেমিক নাগরিকদের  সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এগিয়ে আসা অত্যাধিক সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনো বিজ্ঞানের অধ্যাপক আখতারা বানু বলেন, “তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী গড়ে তুলতে পরিবারকে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা প্রতিটি মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার। এছাড়া সামাজিক পরিবেশ দেখে ও অনেক কিছু শেখার আছে। এজন্য সমাজকে ও গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে”।
—————————-

লেখক-বদরুল ইসলাম বাদল
কলামিস্ট, সাবেক ছাত্র নেতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category